লফরে চ্যাম্পিয়ন গিরিঙ্গিবাজ ও পরকীয়াবাজ মাদকের অভয়দাতা কথিত বাংলা আমিন পুলিশের জালে

এম আলমঃ অপ্রকাশিত লফর তালিকায় চ্যাম্পিয়নে থাকা পরকীয়াবাজ ও গিরিঙ্গিবাজ খ্যাত মাদক ব্যবসায়ীদের অভয়দাতা বাংলা টিভির কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি আমিনুল হক আমিন কথিত বাংলা আমিন এখন পুলিশের জালে আটক। এতে অসংখ্য সাংসারিক কর্তার মনে শান্তির স্বস্তি ফিরে আসলেও, অপরদিকে আতঙ্কে রয়েছে তার মদদের মাদক ব্যবসায়ী সহ অসংখ্য পরকিয়া প্রেমিকা। ৩০ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বিকাল ৩ টার দিকে পর্নোগ্রাফি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মুনিরুল গিয়াস। এ ঘটনায় অপরাপর জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার কথাও জানান তিনি। এছাড়াও ইতিপূর্বে সাবেক মেজর সিনহা হত্যা দিয়ে যেমন কথিত ওসি প্রদীপের অপকর্মের প্রদীপ নিবে আসে, তেমনি এঘটনা দিয়ে তথাকথিত বাংলা আমিনের সকল অপকর্মের অবসান ঘটার আশা ব্যক্ত করেন সচেতন মহল। এই কথিত বাংলা আমিন গ্রেপ্তারের পর তার নিজ এলাকা উখিয়ার বালুখালীর গুমধুমের জনসাধারণ সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা মিষ্টি বিতরণ করছে বলে খবর পাওয়া যায়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, দীপ্ত চ্যানেলের কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি হারুনর রশিদ ও তার স্ত্রীর একান্ত গোপনীয় একটি ছবি কথিত বাংলা আমিনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় দৈনিক যুগান্তর থেকে সদ্য প্রত্যাহার হওয়া কথিত সাংবাদিক মোঃ মনছুর আলম প্রঃ মুন্না সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন। গত ২৮ ডিসেম্বর রাত ০৮টা ৩২ মিনিটের সময় মুন্না তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইল থেকে কুরুচিপূর্ণ বাক্য লিখে অশ্লীল ছবিটি প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর থেকে জড়িতরা বিভিন্ন ধরনের হুমকিধামকি দিচ্ছেন বলে জানান গণমাধ্যমকর্মী হারুনর রশিদ।

অনুসন্ধানে উঠে আসে, কথিত বাংলা আমিনের নাম শুনলেই বুকে হাত দিয়ে কষ্টের নিঃশ্বাস ফেলে এমন সংসার কর্তা ভূরিভূরি। এমন কোন সংসার নেই ভাংগার তালিকা থেকে বাদ পড়েনি, যেখানে তার ছোঁয়া লেগেছে। প্রথমে স্বামীর সাথে বন্ধুত্ব তারপর ঘরে প্রবেশ, এরপর থেকেই শুরু হয় তার মিশন। এই মিশনে স্বামীর ব্যাপারে ঠাকুর মা'র জুলি শুনিয়ে স্ত্রীকে হাত করে চালু হয় পরকীয়ার পর্ব। এই পর্বে অনেক শাশুড়ীও তার পরকিয়া প্রমিকার তালিকায় চলে আসে। কথিত বাংলা আমিনের এসব পরকীয়া প্রেমিকাদের সাথে একান্ত সময় কাটানোর জন্য নিরাপদ স্থান ঐ প্রেমিকার বসতঘর অথবা অপারগপক্ষে নির্ধারিত কটেজ বা হোটেল রুম। এতটুকুতেই যেন তার কান্তি নেই, পরকিয়া প্রেমিকাদের দিয়ে সেচ্ছায় অন্যথায় ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে শুরু হয় তার চিরুনি অভিযান। পরকীয়া প্রেম স্থায়ীত্ব করার এই অভিযান শেষপর্যন্ত আদালতে ডিভোর্সে গিয়ে দাঁড়ায়। এরকম শতাধিক অভিযোগ কথিত বাংলা আমিনের বিরুদ্ধে থাকলেও অনেকে মানসম্মানের কথা ভেবে, আবার কেউ কেউ ভয়ে মুখ খুলছে না। এসব অসামাজিক কার্যকলাপ যেন কথিত এই বাংলা আমিনের স্বভাবজাত অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। কথায় বলে, "যে যায় লঙ্কায়, সে হয় রাবণ"- বর্তমানে পেশাদারিত্বে বাংলা টিভির জেলা প্রতিনিধি কথিত বাংলা আমিনের ভূমিকাও তাই। অপরাধ প্রবণ কক্সবাজার জেলায় অপরাধীদের অপরাধের চিত্র তুলে ধরবে দূরের কথা প্রকাশ হচ্ছে তার নিজের অপকর্মের অপরাধের ভয়াবহতা। শুধু কি তাই, কথিত এই বাংলা আমিনের তার অশোভন উক্তি, "মিথ্যাকে সত্য ও সত্যকে মিথ্যা" বানিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানীতেও বড্ড পটু। তার গ্যড়াঁকলে না পড়লে বুঝার উপায় নেই আসলে তিনি বন্ধু না শত্রু।

এমনই এক ভুক্তভোগী এবাদুল্লা প্রঃ ওবাইদুল বলেন, চাকরীর সুবাধে কক্সবাজার শহরের টেকপাড়া এলাকায় তিনি স্ত্রীকে নিয়ে শশুর বাড়িতে বসবাস করতেন। এই কথিত বাংলা আমিনের সাথে পরিচয় সূত্রে ওবাইদুলের পরিবারের যোগাযোগ হয়। এরপরই কথিত বাংলা আমিনের ধারাবাহিক ঠাকুর মা'র জুলি থেকে শুরু করে বর্তমানে আদালতে ডিভোর্সে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গণমাধ্যম কর্মী বলেন, পেশাদারীত্বের কারণে এই কথিত বাংলা আমিনের সাথে তার বন্ধত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সাংসারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সাথে  মনোমালিন্যর ঘটনাকে পুঁজি করে চালায় কথিত বাংলা আমিন তার ধারাবাহিক সফল চিরুনি অভিযান। কথিত বাংলা আমিন তার পরকিয়া প্রেমের স্থায়িত্ব করার এই অভিযানেরও সমাপ্তি ঘটান ডিভোর্সের মাধ্যমে। 'বন্ধু নামের কলঙ্ক' বাক্যটির জলন্ত প্রমাণ এটি। এরকম অনেক সহকর্মীর সাথে একই ঘটনা ঘটিয়েছে কথিত বাংলা আমিন, তারা সম্মানের কথা ভেবে চুপ হয়ে আছেন বলেও জানান তিনি।

সচেতন মহল জানান, এই কথিত বাংলা আমিনের গিরিঙ্গি পরিকল্পনা ও পরকিয়া প্রেমের স্থায়িত্ব করার চিরুনী অভিযানের কারণে অসংখ্য সংসার ডিভোর্স হয়েছে। অনেক স্বামী তাদের স্ত্রীর দেয়া মামলা কাধে নিয়ে বয়ছেন। তার এমন অপকর্মের কারণে অনেক স্বামী হয়েছেন স্ত্রী হারা, আর নষ্ট হয়েছে অনেক সন্তানের ভবিষ্যত। তার এসব ধারাবাহিক অপকর্মের কারণে লফর আখ্যায়িত করে অপ্রকাশিত লফর তালিকায় প্রথম স্থানে থাকবেন বলে জানান সচেতন মহল।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, সাংবাদিকতার পেশাকে পুঁজি করে প্রশাসনের চক্ষুর আড়ালে মাদক ব্যবসায় মদদ দিয়ে যাচ্ছেন কথিত এই বাংলা আমিন। এছাড়াও ছোট বড় অনেক মাদক ব্যবসায়ীর অভয়দাতা তিনি। এনজিও নারী কর্মী ও পরকীয়া প্রেমিকাদের দিয়ে জেলার বিভিন্ন স্থান ও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাদক সরবরাহ সহ ব্যবসা করান তিনি। সম্প্রতি কথিত আমিনের আপন ভাই জিয়াবুল ৪০০০ পিস ইয়াবা সহ র‍্যাবের হাতে আটক হয়ে মাদক মামলায় বর্তমানে কারাগারে।

ভুক্তভোগীদের দাবী, এই কথিত বাংলা আমিনের সকল অপকর্মের বিচার করে কঠিন শাস্তি দেয়া হোক।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ