সৈয়দপুরে টিকায় উৎসাহ বেড়েছে, উদাসীন মাস্ক ব্যবহারে


মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুরঃ

সৈয়দপুর উপজেলায় করোনার টিকা (ভ্যাকসিন) গ্রহণে সব পেশার মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরী হয়েছে। দিন দিন টিকা গ্রহণকারীর সংখ্যা উচ্চহারে বাড়ছে। তবে টিকা কার্যক্রম শুরুর পর থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে উদাসীন হয়ে পড়েছে শহরবাসী। ফলে সড়ক, হাট-বাজার, মার্কেট, গণপরিবহনে মাস্ক ব্যবহার না করেই অধিকাংশ মানুষ চলাচল করছে।

এদিকে টিকা কার্যক্রম শুরুর দিন ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে গত বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) পর্যন্ত উপজেলায় টিকা গ্রহণ করেছেন মোট ১০ হাজার ২৮০ জন মানুষ। এদের বেশীর ভাগ পঞ্চাশ উর্ধ্ব নারী-পুরুষ। এর মধ্যে প্রথম ডোজের টিকা পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৬২ জন পুরুষ এবং ৩ হাজার ৩১৮ জন নারী।

উপজেলায় গণ টিকাদান কার্যক্রম শুরুর পর থেকে সরকারের ‘নো মাস্ক-নো সার্ভিস’ নীতি ঢিলাঢালা হয়ে পড়েছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা গ্রহীতাদের মাঝে মাস্ক পরার প্রবণতা হ্রাস পেয়েছে। একই অবস্থা বিরাজ করছে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও। একই সঙ্গে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রতি চরম উদাসিন হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। উপজেলার হাট-বাজার, মার্কেট, জনসমাবেশ, গণপরিবহনে মাস্ক পরিধান না করে অধিকাংশ মানুষ চলাচল করছে। অনেকে মাস্ক পরলেও সঠিকভাবে তা পরিধান করছে না। 

তারা মাস্ক থুতনির নীচে নামিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সর্বত্র। ফলে গুরুত্ব হারাচ্ছে মাস্ক পরিধান বজায় রাখার সরকারি পরামর্শ। তবে এ পরামর্শ আমলে না নিলেও টিকা গ্রহণে উৎসাহ বেড়েছে সাধারণের মাঝে। এক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন শিক্ষিত-সচেতন শহরবাসী। আবার টিকা গ্রহণকারীদের মাঝেও দেখা যাচ্ছে উদাসীনতা। এখন খুব নগণ্য সংখ্যক মানুষ মাস্ক পরিধান করে চলাফেরা করছে। এতে টিকা না পাওয়া মানুষের করোনা সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এমনকি ঝুঁকিতে থাকছেন টিকা গ্রহীতারাও। মানুষজনের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলাসহ মাস্ক পড়ার প্রবণতা কমে যাওয়ায় তাদের কাছে মনে হচ্ছে করোনাকে তারা ভয় পান না। কিন্তু দিনের পর দিন যে অবস্থা যাচ্ছে তাতে করোনা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

শহরের শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কে চা বিক্রেতা মো. জাহিদ বলেন, আগুনের সামনে কাজ করতে হয়, মুখে মাস্ক ব্যবহার করলে অস্বস্তি লাগে। তাই মাস্ক থাকলেও ব্যবহার করা হয় না। টিকা গ্রহণ করা নিয়ে এই চা বিক্রেতার মন্তব্য আমরা গরীব মানুষ, আমাদের করোনা আক্রমণ করবে না। আমাদের ওপর আল্লাহর রহমত আছে। তাছাড়া টিকা নিতে কি করতে হয়, তাও জানি না। শুনি এসব করতে ঝামেলা পোহাতে হয়। শহরের বাসটার্মিনালসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, টার্মিনালে যাত্রী ভীড়, কারো মুখে মাস্ক নেই। মাস্ক ছাড়াই গণপরিবহনে যাতায়াত করছে মানুষ। এ নিয়ে কোন ভাবান্তরও দেখা গেল না পরিবহন সংশ্লিষ্ট লোকজনদের। 

শহরের শহীদ তুলশীরাম সড়কে কাঁচা বাজারেও দেখা গেল একই চিত্র। আশরাফ আলী নামে এক সবজি বিক্রেতা বলেন, সবজি বেচার সময় কাস্টমারের সঙ্গে কথা বলতে হয়। মুখে মাস্ক লাগিয়ে কথাবার্তা ঠিকভাবে বলা যায় না। ব্যবসার খাতিরে মাস্ক পরা হয় না। শহরের মুদি বাজারে মুন্না নামে এক ব্যবসায়ী জানান, মাস্ক পরে কথা বলা অসুবিধা হয় বলে অনেক কাস্টমার চলে যায়। তাছাড়া মাস্ক বেশিক্ষণ পরে থাকলে দম আটকে আসে। এ ব্যবসায়ীকে টিকা নেয়ার কথা বললে তিনি জানান, ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় টিকা নেয়ার সময় হয়ে উঠছে না। এছাড়া রেজিস্ট্রেশনের ঝামেলায় তা করা হচ্ছে না। নিয়ম-কানুন সহজ করলে আমাদের মত সাধারণ মানুষের জন্য ভালো হয়। গ্রাম থেকে বাজার করতে আসা এক কৃষিজীবী বলেন, গ্রামে করোনা দেখি না। আমার ছবিওয়ালা মোবাইল নেই। কিভাবে কি করতে হয় জানি না, কোথায় গেলে কাজ হবে তারও প্রচার দেখি না। টিকা কেন্দ্রে গেলে টিকা পাওয়া যাবে এমন কিছু করার কথা বলেন তিনি।

স্থানীয় চিকিৎসকরা জানান, করোনা ভাইরাস ঠেকাতে ভ্যাকসিন নেয়ার পাশাপাশি মাস্ক পরিধান করা বেশি কার্যকর। অথচ সরকারের পরামর্শ মানছে না বেশীর ভাগ মানুষ। এর জন্য মাঠ পর্যায়ে আরও প্রচার-প্রচারণা দরকার। টিকা নিয়ে অহেতুক ভুল ধারণা রয়েছে সাধারণের মধ্যে, এসব ভুল ধারণা ভাঙ্গাতে হবে। তবে তারা বলেন, মানুষ পরামর্শ পালনে উদাসিন হলেও টিকা নেয়া নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। এজন্য সব পক্ষের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।

সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. আবু মো. আলেমুল বাশার বলেন, আগের চেয়ে সব মানুষের মাঝে ভ্যাকসিন নেয়ার আগ্রহ বেড়েছে। প্রতিদিনই টিকা কেন্দ্রে ভীড় বাড়ছে আগ্রহীদের। আবার এর পাশাপাশি মাস্ক ব্যবহারে উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে লোকজনের মাঝে। যা করোনা সংক্রমণের জন্য খুবই বিপদজনক। কারণ করোনা প্রতিরোধে মাস্কের বিকল্প নেই। টিকা গ্রহণ ও মাস্ক পরিধান করতে মাঠ পর্যায়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। তবে করোনা নির্মূল করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য