কুড়িগ্রামে এক বছর ধরে বন্ধ দুই দেশের এক হাট, বিপাকে ব্যবসায়ীরা


নয়ন দাস, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ

দুই দেশে করোনার সংক্রমণ রুখতে সতর্কতা হিসেবে ভারতের কালারচর ও বাংলাদেশের রাজীবপুরের বালিয়ামারী সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে অবস্থিত স্থানীয় বর্ডার হাটটির কার্যক্রম ২০২০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘদিন হাটের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন দুই দেশের ব্যবসায়ীরা।

এই হাটকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সীমান্ত এবং এর আশেপাশের এলাকার দরিদ্র মানুষরা নতুন করে যে জীবন-জীবিকা গড়ে তুলছিলেন, তা স্থবির হয়ে পড়েছে। আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন হাটের নির্ধারিত ক্রেতা-বিক্রেতারাও। এ অবস্থায় পুনরায় হাটটি চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা। বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মাজেদা ও নুরুজ্জামান বলেন, আমরা দীর্ঘ ৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই হাটে ব্যবসা করছিলাম। ব্যবসাও বেশ ভালো চলছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন হাট বন্ধ থাকায় ব্যবসার পুঁজি খেয়ে ফেলতে বাধ্য হয়েছি। এখন খুবই কষ্টে দিনাতিপাত করছি।

তারা আরও বলেন, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সব স্থলবন্দর অনেক আগেই খুলে দেয়া হয়েছে। এজন্য এই হাটটি পুনরায় চালু করার দাবি জানাচ্ছি। স্থানীয় হাট কমিটির সদস্য ও রাজীবপুর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. কামরুল ইসলাম বাদল জানান, হাটে মালামাল কেনা-বেচার জন্য বাংলাদেশের ২৫ জন বিক্রেতা ও ৬১৪ জন ক্রেতা এবং ভারতের ৫০ জন বিক্রেতা ও ৩৫৯ জন ক্রেতা আছেন। এদের সবাইকে হাটে আসা-যাওয়ার জন্য অনুমতিপত্র দেয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে হাটের ক্রেতা-বিক্রেতা নির্ধারিত থাকায় এখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে কোনো সমস্যা হবে না। কারণ তারা ছাড়া আর কারও হাটের নির্ধারিত এলাকায় ঢোকার অনুমতি নেই।

হাটের ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পুনরায় হাটটি চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের স্থানীয় বর্ডার হাট ব্যবস্থাপনা কমিটি। মেঘালয় রাজ্যের আমপাতি সাউথ ওয়েস্ট গারো হিলের ডেপুটি কমিশনার তাদের এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানুয়ারি মাসের ১১ তারিখ বাংলাদেশ অংশের বর্ডার হাট ব্যবস্থাপনা কমিটিকে অবহিত করেছেন। সিদ্ধান্তের চিঠি ফ্যাক্স করে ১৩ জানুয়ারি হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে এসে পৌঁছেছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অংশের বর্ডার হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ও কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মো. সুজাউদ্দৌলা বলেন, ‘আমপাতি সাউথ ওয়েস্ট গারো হিলের ডিপুটি কমিশনারের পাঠানো চিঠি পেয়েছি। এর প্রেক্ষিতে ১৮ জানুয়ারি স্থানীয় বর্ডার হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করা হয়েছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, এ সভার সিদ্ধান্ত জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবহিত করা হবে। সেখান থেকে যে নির্দেশনা দেয়া হবে সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার বালিয়ামারী এবং ভারতের মেঘালয় রাজ্যের আমপাতি জেলার মহেন্দ্রগঞ্জ থানার কালাইচর সীমান্তের ১০৭২ মেইন পিলারের ১৯ নম্বর সাব-পিলারের পাশে উভয় দেশের ৭৫ মিটার করে ৪ বিঘা জমিতে ২০১১ সালে ২৩ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে হাটটি চালু করা হয়।তখন থেকে সপ্তাহে একদিন, প্রতি বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এই হাট বসতো। এরপর ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও ভারতের বর্ডার হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় বর্ডার হাট বসানোর দিন বাড়িয়ে সপ্তাহে দুই দিন করা হয়। এরপর ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর থেকে সোমবার ও বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত হাটে কেনা-বেচা চলে আসছিল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য