৬ জানুয়ারী দিনাজপুরের মহারাজা স্কুলের মাইন বিস্ফোরণ ট্র্যাজেডি দিবস


চৌধুরী নুপুর নাহার তাজ দিনাজপুরঃ

৬ জানুয়ারি দিনাজপুরের মহারাজা স্কুলের মাইন বিস্ফোরণ ট্র্যাজেডি দিবস। স্বাধীনতার ঊষালগ্নে দেশের সবাই যখন আনন্দে আত্মহারা ঠিক সেই মুহূর্তে ১৯৭২ সালের এই দিনে মাইন বিস্ফোরণে শহীদ হয়েছিলেন পাঁচ শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা। আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন অনেকেই। ইতিহাসের পাতায় এ দিনটি একটি শোকাবহ দিন।

১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে দিনাজপুর মুক্ত করে বিভিন্ন জায়গায় পাকিস্তানিদের পুঁতে রাখা মাইন, লুকিয়ে রাখা ও ফেলে যাওয়া অস্ত্রশস্ত্র, বোমা এবং গোলাবারুদ উদ্ধার করে মহারাজা গিরিজানাথ উচ্চ বিদ্যালয় ট্রানজিট ক্যাম্পে এনে জড়ো করা হয়েছিল। সেই ক্যাম্পে তখন ভারতের পতিরাম, হামজাপুর, বাঙ্গালবাড়ী, তরঙ্গপুর, বাংলাদেশের নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট, ফুলবাড়ী, হাকিমপুর, কোতোয়ালি, ঠাকুরগাঁও, পীরগঞ্জ, রাণীশংকেল ও হরিপুর এলাকার ৬ ও ৭ নং সেক্টরের প্রায় এক হাজার মুক্তিযোদ্ধা অবস্থান করছিলেন।

১৯৭২ সালের ৬ জানুয়ারি বিকেলে ঘোড়াঘাট ও নবাবগঞ্জ এলাকা থেকে মুক্তিযোদ্ধারা দুই ট্রাক অস্ত্রশস্ত্র, মাইন, বোমা ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে মহারাজা স্কুল ক্যাম্পে নিয়ে আসে। বিকেল আনুমানিক সোয়া ৫টার দিকে দ্বিতীয় ট্রাক থেকে অস্ত্র নামানোর সময় একজন মুক্তিযোদ্ধার হাত থেকে একটি অ্যান্টি পারসোনাল মাইন মাটিতে পড়ে বিস্ফোরিত হয়। এ সময় সেখানে জড়ো করা বিপুল পরিমাণ মাইন, বোমা বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হতে থাকে। বিদ্যালয়ের কক্ষে অবস্থানরত এবং পার্শ্ববর্তী মসজিদে নামাজ আদায়কারী পাঁচশতাধিক মুক্তিযোদ্ধা নিহত হয়। ঘটনাস্থলে ২০ থেকে ২৫ ফুট গভীর পুকুরে পরিণত হয়।

পূর্ণসামরিক মর্যাদায় ১৩৫ জন মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ পুণ্যভূমি দিনাজপুর চেহেলগাজী মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়। এছাড়া অনেকের মরদেহ তাদের আত্মীয়-স্বজনেরা নিয়ে যান এবং অনেকের দেহ একেবারেই ছিন্ন ভিন্ন হয়ে পড়ায় সঠিক মৃত্যুর সংখ্যা হিসাব করা দুরূহ হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পরদিন মহারাজা বিদ্যালয় এলাকা থেকে শরীরের হাত-পাসহ প্রায় ৫০ মণের মত মাংসপিণ্ড উদ্ধার করা হয়।

দিবসটি স্মরণে প্রতি বছরের মতো এবারও নানা কর্মসূচি পালন করছে স্মৃতি পরিষদ। স্মৃতি পরিষদের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. সফিকুল হক ছুটু ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান কামাল উদ্দিন বাচ্চু বলেন, পরিষদের পক্ষ থেকে কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। তবে প্রশাসনিকভাবে এই দিবসটি পালন করার জন্য কোন কর্মসূচি নেই। আমাদের দাবি এই দিবসটি যেন প্রশাসনিকভাবে কর্মসূচির মাধ্যমে পালন করা হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য