মৌসুমী ফসলের আগাম চাষে সাফল্যের হাতছানি


বিশেষ প্রতিনিধিঃ

তিস্তার চরে আগাম নাপাশাক চাষে লাভবান কৃষক মোসলেম গণী(৩২)। আর কয়েকক দিন পরেই বাজারে আসবে মৌসুমি সবজি।নতুনশাক-সবজি ক্রেতাদের হাতে পৌছে দিতে ব্যস্ত সময় পার করছে চরাঞ্চলের কৃষক মোসলেম। সম্প্রতি বৃষ্টির কারনে ও করোনা ভাইরাসের প্রভাবে আগাম সবজির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।

শীত আসার আগেই ২শতক জমিতে নাপা শাক (লাপা শাল) চাষে লাভবান লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের শৈলমারী চরের কৃষক মোসলেম গণী।প্রতিদিন বিকেলে ভাড়ে করে বালু পাড়ি দিয়ে নদীর উপারে ভুল্ল্যারহাটে গিয়ে শাক বিক্রি করেন তিনি।প্রতি আটি ১০টাকা মূল্যে বিক্রি করে আয় হয় ৪০০/৫০০টাকা।আগাম শাক বিক্রি করতে পারায় অনেকটা স্বচ্ছলতাও ফিরেছে তার।

এবার তিস্তার বালু চরে আগাম নাপা শাক চাষে লাভের মূখ দেখছেন তিনি। তিস্তার বালুচর এখন আর অভিশাপ নয়। বালুচরে ফসল ফলিয়ে মোসলেমের মত তিস্তাপারের হাজারো কৃষক এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।

মোসলেম বলেন,এবার আগাম নাপাশাক চাষ করে অনেকটা লাভবান হয়েছি। গত বছর দেরিতে ফসল হওয়ায় বাজারে তেমন বিক্রি করতে পারি নাই।শীতে ফসলের ক্ষতি হয়েছিল। তাই এবার শীত আসার আগেই আগাম শাক-সবজি চাষাবাদ শুরু করেছি।ঠিক মত পরিচর্যা করতে পারায় ফসল ভালো হয়েছে,আগাম বাজারে নিয়ে যাচ্ছি।দাম মোটা মুটি ভালোই পাচ্ছি।

মোসলেম গণীর নাপা শাক চাষ দেখে সংস্লিষ্টরা বলছেন,চরের জমিতে প্রতিবছর ভুট্টা, বাদাম, রসুন, পেঁয়াজ, মরিচ, কুমড়া, ধান,শাক-সবজিসহ বিভিন্ন জাতীয় ফসল চাষ হয়ে থাকে। চমৎকার ফলনও পেয়ে থাকেন কৃষকেরা। কৃষি ‘কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট এলাকার আওতায় চরের জমিতে গিয়ে কৃষকদের মাঝেমধ্যে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। 

যদি নদী শাসনের মাধ্যমে চরের এসব ফসলি জমিতে পরিকল্পিত চাষাবাদ করার ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে লালমনিরহাট কৃষি অর্থনীতি আরও বেশি সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য