বিভিন্ন জটিলতা থেমে গেছে নীলফামারী-সৈয়দপুর আঞ্চলিক সড়কের কাজ

মো. সাদিক-উর রহমান শাহ্ (স্কলার) রংপুর ব্যুরোঃ

জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় থেমে গেছে নীলফামারী-সৈয়দপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ । সাড়ে ১৫ কিলোমিটারের সড়কটির উন্নয়ন কাজের প্রথম দফার মেয়াদ শেষে সময় বাড়ানো হয়েছে দ্বিতীয় দফায়। দ্বিতীয় দফায় আর মাত্র বাকি আছে নয় মাস। 

এ সময় কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৪০ ভাগ। এমন অবস্থায় জেলা শহর থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলাচলের একমাত্র সড়কটিতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা।

সড়ক বিভাগ জানায়, সাড়ে ১৫ কিলোমিটারের এ সড়কটি ১৮ ফিট থেকে ৪২ ফিট প্রশস্তকরণে ২০১৭ সালে ২২৫ কোটি টাকা অনুমোদন দেয় একনেক। দরপত্র গ্রহণ শেষে ২০১৮ সালের ২ আগস্ট এক বছরের সময় নির্ধারণ করে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। 

সড়কের প্রয়োজনীয় জমি ও স্থাপনা চারটি অংশে বিভক্ত করে অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়। ওই  চার অংশের মধ্যে তিনটির অধিগ্রহণের অর্থ জেলা প্রশাসনকে বুঝে দেয় সড়ক বিভাগ। জেলা প্রশাসন একটি অংশের জমি মালিকদের ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদান করলেও নানা জটিলতায় আটকে যায় বাকি অংশের টাকা।

জেলা সদরের চড়াইখোলা ইউনিয়নের দারোয়ানী পিলার বাজারের ব্যবসায়ী  ইউনুস ফকির বলেন, দুই বছর আগে আমাদের দোকনপাট ভেঙে কাজ শুরু করে। সে থেকে ক্ষতিপূরণের টাকার জন্য ঘুরছি। এক বছর আগে টাকার দাবিতে মানববন্ধন করলে জেলা প্রশাসন থেকে বলা হয়েছিল ১৫ দিনের মধ্যে দেওয়া হবে। ওই ১৫ দিনের স্থলে দুই মাস পার হলেও কোনো খবর নেই।'

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসলাম ব্রাদার্সের প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম বলেন, 'আমরা জমি মালিকদের বুঝিয়ে তাদের জায়গায় কাজ শুরু করেছিলাম। দীর্ঘ সময়েও ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় এখন কাজে বাধা দিচ্ছে তারা। ফলে গত জুন মাস থেকে কাজ বন্ধ রয়েছে। এমন সমস্যায় একটি অংশের ঠিকাদার নাভানা বিল্ডার্স চুক্তি বাতিল করে চলে গেছে। দ্রম্নত সমাধান না হলে আমাদেরও কাজ ছেড়ে চলে যেতে হবে।'

নীলফামারী সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল করিম বলেন, 'ভূমি অধিগ্রহণের চারটি অংশের মধ্যে তিনটি অংশের বিপরীতে জেলা প্রশাসনকে ২৫৮ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। একটি অংশের প্রক্কলন এখনো পাইনি। সেটি পেলে তাদের চাহিদামতো টাকা দেওয়া হবে।'

জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, 'ওই সড়কের জমি ও স্থাপনা অধিগ্রহণে চারটি ভাগ করা হয়েছে। যার মধ্যে একটি অংশের ক্ষতিপূরণ প্রদান করে জায়গা বুঝে দেওয়া হয়। করোনার সময়ে একটি অংশের মাঠ বই তৈরি করা যাচ্ছে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য