বেকার ভাতা দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়া অভিযোগ মিথ্যা দাবী পক্ষে দোকান মালিক সমিতির মানববন্ধন

আশরাফুল ইসলাম গাইবান্ধাঃ  
সরকারি ভাবে বেকার ভাতার সুবিধা দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠায় এঘটনাটি সময় টিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর কেন্দ্রীয় যুবলীগের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সংগঠন বহিভূত কর্মকান্ডের অভিযোগ উঠায় সংগঠনটি থেকে বহিস্কার করার পরেও 

গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলা যুবলীগের বহিস্কৃত সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. আজাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ মিথ্যা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র  দাবী করে পলাশবাড়ী উপজেলা দোকান মালিক সমিতির ব্যানারে  এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

৫ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুরে পলাশবাড়ী উপজেলা দোকান মালিক সমিতির আয়োজনে  ঢাকা-রংপুর জাতীয় মহাসড়কের  পলাশবাড়ী  পৌর শহরের চৌমাথা মোড়ে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি মানুষ। যে মানববন্ধন দোকান মালিক সমিতির ব্যানারে আয়োজন হলেও স্থানীয় পরিচিত মুখ গুলোর পাশাপাশি কিছু নারী ও অপরিচিত কিশোরদের অংশ গ্রহন দেখা যায় চোখে পড়ার মতো ।

এ মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন পলাশবাড়ী উপজেলা জাসদের সভাপতি নুরুজ্জামান প্রধান, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নির্মল মিত্র, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাদশা ও কৃষি বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, উপজেলা বাস-মিনিবাস কোচ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. আব্দুস সোবহান, উপজেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গোলাম সারোয়ার প্রধান বিপ্লব, 

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট জেলা শাখার আহবায়ক আব্দুল্লাহেল ফারুক, পলাশবাড়ী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ফিরোজ কবীর চৌধুরী পলাশ, পলাশবাড়ী উপজেলা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. ফরিদুল হক, সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম ও সদস্য নাসিব হাসান সিউল প্রমুখ। যাদের নাম মানবন্ধনের সংবাদে বক্তা হিসাবে তুলে ধরেছেন স্থানী ও জেলা পর্যায়ে কিছু গণমাধ্যম কর্মী। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে উপজেলার অন্য কোন দোকান মালিক বা কর্মচারী নাম সেখানে পাওয়া যায়নি।

এসব সংবাদে তুলে ধরা হয়েছে যে বক্তারা বলেন, চলতি বছরের ১৩ মে উপজেলা শহরের গৃধারীপুর এলাকার ফারুক আকন্দ নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার করে পলাশবাড়ী থানার পুলিশ। এ ঘটনায় ভাইকে উদ্ধারে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. আজাদুল ইসলামের কাছে সহযোগিতা চান ফারুক আকন্দের বোন তাছলিমা আক্তার হীরা। 

কিন্তু পূর্ব থেকে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় ও তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে সহযোগিতা না করায় তারা আজাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা অপপ্রচার করছেন। অথচ আজাদুল ইসলাম দীর্ঘদিন থেকে সুনামের সাথে রাজনীতি ও ব্যবসা করে আসছেন। কিন্তু একটি মহল ইর্ষান্বিত হয়ে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে ও লিপ্ত রয়েছে। 

ফারুক আকন্দ ও তার বোন তাছলিমা আক্তার হীরা এলাকায় সুদের ব্যবসা করে সাধারণ নিরীহ মানুষদের হয়রানী করে থাকেন বলে দাবী করেছেন। আর এতে করেই আজাদুল ইসলাম তাদের চক্রান্তের শিকার। আর তাই বক্তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার জোড় দাবি জানান প্রশাসনের কাছে।

অপরদিকে আজাদুল ইসলামে বিরুদ্ধে অভিযোগকারীরা বেকার যুবক যুবতিরা একইদিন বিকালে গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপারের নিকট গিয়ে উপরোক্ত ঘটনার বিচারের দাবীতে ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনে প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন । এছাড়াও তারা গাইবান্ধা জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক  বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ঘটনাটির যথাযথ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান।

এসময় অভিযোগকারী বেকার যুবক যুবতিরা বলেন , আমাদের সরকারিভাবে বেকার ভাতা দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আজাদুল ইসলাম নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মের্সাস আজাদ টেড্রাস এর সোনালী ব্যাংক পলাশবাড়ী শাখার হিসাব নং এর একটি ৩০ লক্ষ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। যেটি আমাদের কাছে একমাত্র সাক্ষি প্রমান হিসাবে রয়েছে। 

এর বাহিরে কিছু ভিডিও আমাদের হাতে প্রমাণ হিসাবে থাকলেও তা কেউ গ্রহন করছে না এবং আমাদের কাছে থাকা চেকটি ব্যাংক কৃর্তপক্ষ ডিজঅনার করে না দেওয়ায় আমরা থানায় অভিযোগ দিলেও মামলা দায়ের করতে পারছিনা । সরকারিভাবে বেকার ভাতা দেওয়ার নামে আমাদের ৪৮ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ৩০ জন যুবক যুবতি পলাশবাড়ী থানায় স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। 

এছাড়াও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কামনা করে পোষ্ট অফিসের মাধ্যমে রেজিস্টার করে ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার আবেদন করেছি। যাহার অনুলিপি চেয়ারম্যান দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) , জেলা প্রশাসক গাইবান্ধা.জেলা পুলিশ সুপার গাইবান্ধা, 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার পলাশবাড়ী ও থানা অফিসার ইনচার্জ পলাশবাড়ী কে প্রদান করা হয়েছে। আমরা আমাদের অভিযোগে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানালেও অদৃশ্য কারণে আমাদের অভিযোগের বিষয়ে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন না করায় আমরা দারুন ভাবে হতাশায় ভুগছি। 

এমতঅবস্থায় আমরা কি করবো বুঝতে পারছিনা কোথায় গেলে আমাদের টাকা ফেরত পাবো আর পাবো তদন্ত সাপেক্ষে নায্য বিচার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য