পলাশবাড়ীতে গরু বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে ছেলে মেয়ের বেকার ভাতার আবেদনের টাকা

আশরাফুল ইসলাম গাইবান্ধাঃ
আজ হতে সময় শেষ বেকার ভাতার আবেদনে যদি করতে চান তাহলে এখনি টাকা নিয়ে আসেন । ২৫ হাজার টাকা দিয়ে প্রতিজন যুবক যুবতি কোন প্রকার কাজ কর্ম না করে মোট পাবে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। উত্তরে ভুক্তভোগী পরিবার আমাদের হাতে তো এতো গুলো নগত টাকা নেই তবে আমার আত্মীয় বাড়ী পার্শ্ববর্তী উপজেলার সাদুল্যাপুরের  ধাপেরহাটে রয়েছে একটি গরু । 

অবশেষে কমদামে সেই গরু বিক্রি করে বেকার ছেলে মেয়ের জন্য পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আজাদুল ইসলাম কে দেওয়া হয় দুই ভাই বোনের বেকার ভাতার আবেদনের জন্য ৫০ হাজার টাকা। এই টাকা প্রদানকারী ভুক্তভোগীরা হলো পলাশবাড়ী পৌর এলাকার শিবরামপুর গ্রামের মোজ্জামেলের ছেলে জাহিদ হাসান ও মেয়ে তাহমিনা আক্তার। 

টাকা দেওয়ার পর হতে আজ না হয় কাল হবে হবে করতে করতে আজ প্রায় ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা তো দূরের কথা নিজেদের জমা দেওয়া ২৫ হাজার করে ৫০ হাজার টাকার একটি টাকাও আজ ফিরিয়ে পায়নি ভুক্তভোগীরা ।

ভুক্তভোগী জাহিদ হাসান জানান, আমার খালার গরু বিক্রি করে আমাদের ভাই বোনের জন্য বেকার ভাতা টাকা দিয়েছি আমার পরিবার অথচ বেকার ভাতা থাকলো দুরের কথা  আজও আমাদের দেওয়া টাকাও পায়নি আজ নয় কাল করতে করতে যাচ্ছে মাসের পর মাস । আমরা দুই ভাইবোন কে যে কথা বলে টাকা নেওয়া হয়েছে আমরা সেই পরিমাণ টাকা  এবং প্রতারণাকারীর বিচার ও দৃষ্ঠান্ত মূলক শাস্তি দাবী করছি।

এর আগে ৩০ জন যুবক যুবতির নিকট হতে ৪৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে দুটি ব্যাংকের একাউন্টে টাকা না থাকলেও প্রায় ১ কোটি টাকার চেক দিয়েছেন। এছাড়াও আরো বেরিয়ে আসছে অনেক ভুক্তভোগী বেকার যুবক যুবতি যারা বেকার ভাতার জন্য নগত অর্থ দিয়ে প্রতারণার স্বীকার হয়েছেন আজাদুল ইসলামের কাছে। আবার অনেকেই রয়েছে যারা ১ হাজার অথবা ২ হাজার করে কিস্তি মাফিক টাকা পেয়েছে আর এখনো অনেকেই টাকা পায়নি। আবার ভয়ে টাকা দেওয়ার কথা বলতে চাইছেন না একাধিক পরিবার।

চিটিং আর ফিটিং দিয়ে চলে আর বড় বড় কথা বলে গালাবাজি আর তেলবাজি যাদের ব্যবসা। গরিব কে তো এরা মানুষই মনে করে না। শ্রমজীবি মানুষ গুলো যাদের কাছে প্রতিনিয়ত হয় লাঞ্চিত ও অকর্থ গালিগালাজের স্বীকার । এরাই গণমানুষের দল আওয়ামীলীগে নেতা সেজেছে একাধিক পদপদবি আকড়ে ধরে আছে বাপ দাদার সম্পতি মনে করে। অভিনব কায়দায় স্থানীয় বেকার যুবক যুবতিদের নিকট হতে বেকার ভাতা করে দেওয়ার কথা বলে গোটা উপজেলার পাশাপাশি নিজ পত্রিক গ্রামের বেকার যুবক যুবতিদের নিকট হতে হাতিয়ে নিয়েছে জনপ্রতি ২৫ হাজার করে টাকা। 

বিনিময়ে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে নাম ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেজবাউল হোসেনের নাম ব্যবহার করে দেওয়া হয়েছে ২২ হাজার টাকার মানি রিসিভ । যাতে কোন গ্রহনকারী বা প্রদানকারী নেই কোন স্বাক্ষর তবে প্রদানকারী নাম দেওয়া হয়েছে ও টাকার পরিমাণ ২২ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে প্রতিটি মানি রিসিভে। 

বাকি ৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে আবেদন করতে বিভিন্ন বিষয়ে খরচ বাবদ। আজাদুল ইসলামের বর্তমান বসবাস পৌর এলাকার জামালপুর গ্রামে এ গ্রামের প্রবেশদ্বারে তাদের বসবাস হলেও এই গ্রামটির ছোট শিশু থেকে বৃদ্ধ মানুষের নিকট শোনা যায় তাদের দল পুজির গল্প গায়ে মানে না আপনি মোড়ল ভাব।

উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আজাদুল ইসলাম বেকার ভাতা করে দেওয়ার কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক প্রমাণ থাকলেও এখনো ধরা ছোয়ার বাহিরে থাকায় জনমনে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা যেমন ঠিক তেমনি হতাশায় ভুগছে ভুক্তভোগী যুবক যুবতিরা। আর দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বইছে দারুন ক্ষোভ । 

একাধারে বছরের পর বছর যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদকের পদ আকড়ে ধরে আছে আজাদুল ইসলাম। উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হিসাবে রয়েছেন দীর্ঘদিন হলো । পলাশবাড়ীতে যুবলীগের বিভিন্ন ইউনিয়নে এক যুগ আগে হওয়া কমিটি থাকলেও আজ সাংগঠনিক কর্মকান্ড নেই বললেই চলে নেতাকর্মীরা এদের নিকট কোনটাসা হয়ে রাজনীতি থেকে রয়েছেন অনেক দুরে। 

দল ক্ষমতাসীন থাকাকালে এ সময়েও আজ সংগঠনটি বেহাল অবস্থা উপজেলা জুড়ে । এখনো অকপটে স্বীকার করতে হয় পলাশবাড়ী উপজেলা বিএনপি জামাত অধ্যুষিত এলাকা হিসাবে। অথচ গত বিএনপি জামাত চারদলীয় সরকারের সময় এই যুবলীগের নেতাকর্মী ছিলো ঘরে ঘরে দলীয় শক্তি ছিলো আকাশ চুম্বি। চারদলীয় সরকারের সময় শত নির্যাতন মামলা হামলাতে রাজপথ ছিলো যুবলীগের দখলে। 

সেই রাজনীতিক সংগঠনটি নিজের আখের গোছানো এসব নেতার কারণে আজ এ সুনামধন্য সংগঠনটি উপজেলা জুড়ে অস্তিতহীন হয়ে পড়েছে। যুগ পার হওয়া ইউনিট কমিটি গুলো শুধু কলার গাছের মতো দাড়িয়ে রয়েছে নেই যাদের কোন সাংগঠনিক কার্যক্রম। এমন অবস্থার পাশাপাশি নেতৃত্বে থাকা নেতার নানা অপকর্মের খবরে সংগঠনটির সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীদের মাঝে বইছে ক্ষোভ ও আক্রোশ। 

তারা মুখিয়ে আছে যে কোন সময় তারা বিস্ফোরিত হয়ে যেতে পারে যা এখন সময়ে ব্যাপার মাত্র।এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুবলীগের নেতাকর্মীরা জানান, আগওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী একই ব্যক্তি দুটি বড় পদে থাকতে পারে না। কোন ক্ষমতার জোড়ে তিনি আজ দুটি বড় পদ আকড়ে ধরে আছেন। তারা আরো  জানান, একজন ব্যক্তি কারণে সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে না । 

ব্যক্তি অপকর্মের দায় ব্যক্তিকেই নিতে হবে সংগঠন কে নয়। আমরা দলীয় হাই কমান্ডের নিকট বিষয়টি তুলে ধরেছি আশার করছি তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাসহ আইন ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

ভুক্তভোগী শিবরামপুর গ্রামের জাহিদ ও তাহমিনাকে চিনেন কিনা এবিষয়ে অভিযুক্ত আজাদুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি মোবাইলে বলেন, আমার মনে হয় এ ব্যাপারে কথা আমি আর বাড়াতে চাচ্ছি না । তুমি আমার এলাকার লোক ও কাছেরও  মানুষ আমাকে তোমার লাগবে কিনা  । 

এমন উত্তরে প্রতিবেদক আমরা যেহেতু একই এলাকার সেহেতু একে অপরকে লাগবে এটা স্বাভাবিক এর উত্তরে আজাদুল ইসলাম জানান, তবে পরে সাক্ষাতে কথা হবে । উল্লেখ্য, আজাদুল ইসলাম পৌর এলাকার জামালপুর গ্রামের মৃত নছের উদ্দিন সরকারের ছেলে। পলাশবাড়ী উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সভাপতি এছাড়াও তিনি পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। 

তিনি একাধারে ঠিকাদার,পরিবহন ব্যবসায়ি পলাশবাড়ীস্থ গাইবান্ধা জেলা বাস মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সহ সাধারণ সম্পাদক এছাড়াও ঢোলভাঙ্গা স্কুল এন্ড কলেজের লাইব্রেরিয়ান হিসাবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি জালাগাড়ী দূর্গাপুর মাদ্রাসার সভাপতি  ও পলাশবাড়ী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করছেন। 

( এবিষয়ে ধারাবাহিক আরো দেখতে ও জানতে চোখ রাখুন পরবর্তী পর্বে)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য