গাইবান্ধায় বন্যায় চরাঞ্চলে পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ ব্যাপক নদী ভাঙ্গন

আশরাফুল ইসলাম গাইবান্ধাঃ 
গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও তিস্তার নদীর পানি কমতে শুরু করলেও জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। 

জেলার সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার চরাঞ্চলগুলোতে এখনও পানিবন্দী মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এদিকে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গেই ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীর ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণম করেছে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার কিছুটা নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। 

সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া, শ্রীপুর, হরিপুর, গাইবান্ধার সদরের কামারজানি, ফুলছড়ির কাতলামারি, সিংড়িয়া, কামারপাড়া এবং সাঘাটার গোবিন্দি ও হলদিয়ার বিভিন্ন গ্রামে ব্যাপক ভাঙনের ফলে গত তিনদিনে সাড়ে ৩শ’ ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। 

অপরদিকে জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, এবারের বন্যায় সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার ২৬টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়। এ বন্যায় ২৩ হাজার ৮৬৫টি ও প্রায় ৩৬ কি.মি. রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বন্যায় জেলায় ৩ হাজার ৫৫২ হেক্টর জমির পাটসহ শাকসবজি ও বিভিন্ন ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। 

এসব ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন করা হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তর জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ২০০ মে. টন চাল, ১ হাজার ৮শ’ প্যাকেট শুকনো খাবার ও ত্রাণ হিসেবে বন্যার্তদের মধ্যে নগদ টাকা ১৩ লাখ এবং গো-খাদ্য হিসেবে ২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়। 

অপরদিকে সিভিল সার্জন সুত্রে জানা গেছে, বন্যা দুর্গত এলাকায় তাদের ৬১টি মেডিকেল টিম স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য