গৃহবধূর আত্মহত্যা প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা

মিজানুর রহমান মিলন, স্টাফ রিপোর্টারঃ
নীলফামারীর সৈয়দপুরে শিল্পী আক্তার (২৮) নামের এক গৃহবধূর আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। মৃত গৃহবধূর বাবা মো. ফজলুল হক বাদী হয়ে গতকাল বুধবার রাতে পাঁচজনকে আসামী করে  সৈয়দপুর থানায় ওই মামলাটি দায়ের করেন। 

মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক কথা, মিথ্যে অপবাদ, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে গৃহবধূ শিল্পী আক্তার শহরের উপকণ্ঠে ধলাগাছ সরকারপাড়া এলাকায় ভাড়া বাড়িতে গলায় রশি দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।  

থানায় দায়ের করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, শহরের উপকণ্ঠে ধলাগাছ ডাঙ্গাপাড়ার মো. ফজলুল হকের মেয়ে শিল্পী আক্তার তাঁর স্বামী মো. সোহেল এবং এক পুত্র সন্তানকে নিয়ে ধলাগাছ সরকার পাড়ায় জনৈক লেমনের ভাড়া বাসায় থাকতো। 

ঘটনার দিন গতকাল বুধবার বিকেল সোয়া ৫ টার দিকে তিনি বাড়ির লোকজনের অনুপস্থিতিতে ভাড়া বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে প্লাষ্টিকের রশি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। এসময় নিহতের মা ফাতেমা বেগম মেয়ের ভাড়া বাড়িতে গিয়ে ভেতর থেকে ঘর তালাবদ্ধ দেখতে পান। 

পরবর্তীতে সে (গৃহবধুর মা)  নিজ বাড়িতে রক্ষিত অন্য একটি চাবি নিয়ে আশপাশে লোকজন সহযোগিতায় ঘরের তালা খুলে সিলিং ফ্যানে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেয়া মেয়ে শিল্পী আক্তারকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। সাথে সাথে একটি রিকশা ভ্যানযোগে তাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। 

এ ঘটনায় নিহতের বাবা ফজলুল হক বাদী হয়ে মেয়ের ভাড়া বাড়ির প্রতিবেশি পাঁচজনের নামে সৈয়দপুর থানায় একটি মামলা করেন।  মামলায় আসামী করা হয়েছে ধলাগাছ সরকারপাড়ার  মো. ইয়াছিন আলী ভোলার স্ত্রী মোছা. পলি বেগম (২৮), একই এলাকার মৃত. কাল্টু মামুদের ছেলে মো. আইজুল (৫২) 

এবং তাঁর দুই মেয়ে মোছা.আর্জিনা বেগম (৩২)  ও মোছা. আনজু বেগম (২৮) এবং রহিমের স্ত্রী মোছা. বুলবুলি বেগম (৪৫)। আসামীদের বিরুদ্ধে গৃহবধূ শিল্পীকে উস্কানিমূলক কথা, মিথ্যে অপবাদ , মানসিক ও  শারীরিক নির্যাতন, হুমকি ধমকি প্রদর্শনের মাধ্যমে  আত্মহত্যা প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগ আনা হয়। 

মামলায় বলা হয়, গৃহবধু আত্মহত্যার আগে কলম দিয়ে ঘরের দেয়ালে উল্লিখিত ৫ জনের নাম উল্লেখ করছে শিল্পী আক্তার। ওই লেখায় সে বলেছে তাদের কারণে সে আত্মহত্যা করেছে। আজ বৃহস্পতিবার নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। 

জানতে চাইলে সৈয়দপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত)  মো. আতাউর রহমান এক গৃহবধূূর গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার ঘটনায় থানায় মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন মামলাটি নিজেই তদন্ত করছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য