ডোমারে অপহরণ করে নাবালিকাকে বিয়ে : অপহরণকারী ও নিকাহ রেজিস্ট্রার গ্রেফতার

রতন কুমার রায়,স্টাফ রিপোর্টার: 
নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় অপহরণ করে অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে জোড় করে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগে অপহরণকারী ও নিকাহ রেজিস্ট্রারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, উপজেলার খাটুরিয়া এলাকার মৃত দবির উদ্দিনের ছেলে মানিক ইসলাম (৩২) ও খাটুরিয়া সেন্টারপাড়া এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজি হাবিবুর রহমান (৬০)। 


ছাত্রীটির বাবা ডোমার থানায় নারী নির্যাতনের একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলা সুত্রে জানা গেছে, ডোমার বালিকা বিদ্যা নিকেতনের অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার সময় কয়েক মাস হতে উত্ত্যক্ত করে ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রী মানিক। 

গত ২৮ মে ছাত্রীটি তার খালার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার সময় উপজেলার মেলাপাঙ্গা এলাকায় দুপুরে মানিক তাকে অপহরন করে মটরসাইকেল যোগে নিকাহ রেজিস্ট্রার হাবিবুর রহমানের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে মেয়েটিকে জোড় করে একটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রার হাবিবুর রহমান বলে, আজ থেকে তোমরা স্বামী-স্ত্রী। 

মানিক নাবালিকা মেয়েটিকে বিভিন্ন হুমকি ও ভয় দেখিয়ে বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ করতে নিষেধ করে। এরপর মেয়েটি বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় একাধীকবার মেয়েটিকে জোড় করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে ভয়ভীতি দেখায়। 

গত সোমবার (১৫ জুন) বিকালে মেয়েটি তার নানা বাড়ি যাওয়ার সময় পাঙ্গা মটুকপুর মুছার মোড়ে আবারো তাকে মানিক জোড় করে মটরসাইকেলে উঠানো চেষ্টা করে। এসময় নাবালিকা মেয়েটির চিৎকারে ওই এলাকার মানুষজন তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেয়। 

ডোমার থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মেয়েটিকে উদ্ধার ও মানিককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। 

এসময় মানিকের স্বিকারোক্তি অনুযায়ী রাতে নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজি হাবিবুর রহমানকে তার বাড়ি হতে পুলিশ থানায় নিয়ে আসে। 


পরদিন মঙ্গলবার (১৬ জুন) মেয়েটির বাবা বাবলু ইসলাম ডোমার থানায় নারী নির্যাতনের একটি মামলা দায়ের করেন। এতে তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে দুপুরে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 


ডোমার থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

তিনি আরো জানান, গোপনে কিছু নিকাহ রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে শিশু বিবাহ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য