ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক লাশ দাফনে বাঁধা দেওয়ার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি

হাসানুজ্জামান হাসান, লালমনিরহাটঃ লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাতের বিরুদ্ধে গার্মেন্টকর্মী মাহমুদা বেগম মৌসুমির(২১) লাশ দাফনে বাধাদানের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের তদন্ত কমিটি। ইউনিয়নের উফারমারা গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা গোলাম মোস্তফার একমাত্র মেয়ে গার্মেন্টকর্মী মাহমুদা বেগম মৌসুমি ঢাকা থেকে ট্রাকে করে বাড়ীতে ফেরার পথে মারা যান। ৯৯৯ এ সংবাদ পেয়ে ওই ট্রাকের কেবিন থেকে মৌসুমির লাশ উদ্ধার করে রংপুর তাজহাট থানা পুলিশ। ময়না তদন্ত শেষে মৌসুমির বাবা গোলাম মোস্তফার কাছে ২৩ মে সন্ধ্যায় লাশ হস্তান্তর করে তাজহাট থানা পুলিশ। করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মারা যাওয়ার খবর বুড়িমারী এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় এলাকাবাসী লাশ নিতে অসহযোগিতা করে। স্থানীয় চেয়ারম্যানের নিকট ফোন করে লাশ নিতে অনুমতি চান মৌসুমির বাবা। তবে চেয়ারম্যান লাশ দাফনে বাঁধা দেন। চেয়ারম্যানের হুমকিতে উপায় না পেয়ে মাইক্রোবাস চালককে ৫ হাজার টাকায় লাশ দাফনের দায়িত্ব দেন গোলাম মোস্তফা। কিন্তু এম্বুলেন্স ড্রাইভার লাশ দাফন না করে তিস্তা নদীতে ভাসিয়ে দেন। ভাসিয়ে দেওয়া সেই লাশ সরকারি ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় তিস্তা নদী থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ে  উদ্ধার করে আদিতমারী থানা পুলিশ। লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও স্থানীয় সরকার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক(ডিডি) রফিকুল ইসলাম গত ২৬ মে সরেজমিনে ঘটনার তদন্তে বুড়িমারী ইউনিয়নে যান এবং তদন্ত শেষে জেলা প্রশাসক বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করেন। অভিযোগের সত্যতার প্রতিবেদন সুপারিশসহ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ২৮ মে  পাঠান লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর। লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, 'তদন্তে বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২৮ মে বৃহস্পতিবার ওই তদন্ত প্রতিবেদন সুপারিশসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এদিকে লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা বলেন, 'কল লিষ্ট যাচাই-বাছাই পাওয়া গেছে নিহত মৌসুমির বাবা গোলাম মোস্তফা লাশ দাফনে অনুমতির জন্য বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মোবাইলে কথা বলেছিলেন। ওই সময় চেয়ারম্যান লাশ এলাকায় দাফনে বাঁধা দেন। তিনি আরো বলেন, 'ইউডি মামলা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ ও লাশ দাফন করতে না পারার কারণ তদন্ত চলছে।' জানতে চাইলে মৌসুমির বাবা বলেন, 'সরকারের কাছে আমি ন্যায় বিচার চাই।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য