গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
দ্বিতীয় বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে
বাড়িতে ওঠায় শারীরিক নির্যাতনের পর মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে
প্রথম স্ত্রী খুশী বেগম ও তাঁর দেবর বাবলু মুন্সির বিরুদ্ধে। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামে ওই ঘটনাটি ঘটেছে।
এনিয়ে নির্যাতনের শিকার নারীর
ভাই বাবুল হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত দেবর-ভাবী পলাতক রয়েছেন। একই সাথে আত্মগোপনে রয়েছেন নির্যাতনের শিকার ওই নারী ও তাঁর স্বামী ফরিদ উদ্দিন। একারনে মামলার অগ্রগতি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন পুলিশ।
থানা পুলিশ ও নির্যাতিতার পরিবার সুত্রে জানাগেছে,- ফরিদ উদ্দিন স্ত্রী ও স্কুল- কলেজ পড়–য়া দুই সন্তান ফেলে নির্যাতনের শিকার ওই নারীর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। তাঁর সংসারেও ১৫ বছরের এক ছেলে ও ৮ বছরের এক মেয়ে রয়েছে। এক পর্যায়ে তাঁরা বিয়ে করে নিরুদ্দেশ হয়ে পড়েন।
ছয় মাসেরও বেশি সময় পর দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন ফরিদ উদ্দিন। সেটা গেল ১ মে’র ঘটনা। বাড়ি ফেরার পর প্রথম স্ত্রী ও তাঁর ছেলেমেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন। উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ডেকে আনা হয় ফরিদের ছোটভাই বাবলু মুন্সিকে। তাঁরা সম্মিলিতভাবে ওই নারীকে শারীরিক নির্যাতনের পর মাথার চুল কেটে দেয়। একই সাথে মারধর করা হয় ফরিদ উদ্দিনকে। পরিস্থিতির কারনে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে রাতেই গ্রাম ছাড়েন ফরিদ উদ্দিন।
মামলার বাদী অভিযোগ করেন,- তাঁর বোনের সংসার ভেঙ্গেছেন ফরিদ উদ্দিন। পরিস্থিতির কারনে পালিয়ে থাকার পর বাড়িতে উঠলেও সুখ হয়নি। উপরন্ত নির্যাতনের পর মাথার চুল কেটে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে তাঁর বোনের সাথে। ওই ঘটনার পর থেকে বোন ও বোনজামাইয়ের খোঁঝখবরও মিলছেনা। এনিয়ে উদ্বিগ্ন তাঁরা। তাঁদের উদ্ধার ও ন্যায়বিচার পেতে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শারীরিক নির্যাতনের পর মাথার চুলকেটে নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও
অভিযুক্তরা আত্মগোপনে থাকায় তা সম্ভব হয়নি। তবে প্রতিবেশিরা বলছেন, ঘটনার রাতে ফরিদ উদ্দিনের বাড়িতে উত্তেজনা ও কান্নাকাটির সব্দ শুনেছেন তাঁরা। তার পর দিন থেকে সকলেই আত্মগোপনে রয়েছেন।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাহারুল ইসলাম মুঠোফোনে সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,
নির্যাতনের শিকার নারী স্বামীসহ আত্মগোপনের থাকায় পুলিশে তদন্ত বাধাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে।


0 মন্তব্যসমূহ