সৈয়দপুরে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুর, কৌশলে দখলের অপচেষ্টার প্রতিবাদে স্মারকলিপি প্রদান


মিজানুর রহমান মিলন স্টাফ রিপোর্টারঃ নীলফামারীর সৈয়দপুরে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরে টাইলস্ ভাঙচুর এবং আশপাশের জায়গা দখলের অপচেষ্টার প্রতিবাদে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভা শেষে  এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবিতে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে সৈয়দপুর উপজেলা নিবাহী অফিসার  বরাবরে একটি স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে।
গতকাল বৃহম্পতিবার দুপুরে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ বাস্তবায়ন কমিটি শহীদ পরিবারের সদস্যরা সৈয়দপুর উপজেলা নিবাহী অফিসার মো. নাসিম আহমেদের কাছে ওই স্মারকলিপি প্রদান করেন। শহরের শহীদ ক্যাপ্টেন মৃধা সামশুল হুদা সড়কের নির্মাণাধীন শহীদ স্মৃতি স্তম্ভের অফিস চত্বরে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য বলেন শহীদ স্মৃতি স্মম্ভ বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. সাখাওয়াৎ হোসেন খোকন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মহসিনুল হক মহসিন, পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম বাবু, আওয়ামী লীগ নেতা একেএম রাশেদুজ্জামান রাশেদ, সংস্কৃতি কর্মী আতাউর রহমান ময়না, মুক্তিযোদ্ধা মো. ইউনুছ আলী, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মহসিন মন্ডল মিঠু প্রমূখ। সভায় বক্তারা শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ চত্বরে ক্রিকেট খেলার জন্য পিচ তৈরি, স্মৃতিস্তম্ভে লাগানো টাইলস্ ভাঙচুর এবং এর আশেপাশের জায়গায় টিনের ঘেরা দিয়ে দখলের অপচেষ্টার ঘটনার তীব্র ক্ষোভ নিন্দা জানান। একইসাথে এসব ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে সনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসনের প্রতি দাবি জানানো হয়। পরে শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ বাস্তবায়ন কমিটির দেয়া স্মারকলিপি গ্রহণ করেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাসিম আহমেদ। সময় তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন। প্রসঙ্গত, মহান স্বাধীনতার যুদ্ধে অবাঙ্গালী (উর্দূভাষী) অধ্যূষিত  সৈয়দপুর শহরের প্রেক্ষাপট ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে দুইটি পক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের। এর একটি পাকবাহিনী এবং অপরটি তাদের এদেশীয় দোসর স্বাধীনতা বিরোধী চক্র।
মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধে সৈয়দপুরে ঠিক কতজন শহীদ হয়েছেন তার সঠিক কোন হিসেবে নেই। তারপরও বিভিন্ন সূত্রে মতে এদের সংখ্যা প্রায় দেড় শতাধিক। সৈয়দপুরে এখনও অনেক পরিবার রয়েছে তাদের কোন সদস্যকে সেদিন বাঁচাতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে স্বাধীনতার দীর্ঘদিনেও সৈয়দপুর শহরে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের স্মরণে একটি শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ কিংবা স্মৃতি সৌধ নির্মাণ গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছিল না। যদিও বিভিন্ন সময়ে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অবশেষে বিগত ১৯৯৬ সালে শহরের শহীদ ক্যাপ্টেন মৃধা সামশুল হুদা সড়কে (ডাকবাংলোর বিপরীতে) এটি নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। যদিও এটি নির্মাণের কাজ পুরোপুরি সম্পূর্ণ হয়নি। কিন্তু তারপরও গত দুই বছর যাবত স্বাধীনতা দিবস এবং মহান বিজয় দিবসে নির্মাণাধীন ওই শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্যদিয়ে শহীদদের স্মরণ করা হচ্ছে।  অবস্থায় স্বাধীনতা বিরোধী একটি কুচক্রী মহল রাতের আঁধারে নির্মাণাধীন শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে লাগানো মূল্যবান টাইলস্ ভেঙ্গে ফেলছে। সেই সঙ্গে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরে নির্মাণ করা হয়েছে ক্রিকেট খেলার জন্য একটি পাকা পিচ। এছাড়া আশেপাশে বসবাসকারী কিছু ব্যক্তি শহীদ স্মৃতি স্তম্ভের জায়গায় টিনের ঘেরা দিয়ে নিজেদের দখলের নেওয়া অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এতে শহীদ স্তম্ভের জায়গায় সংকীর্ণ হয়ে পড়ছে। এসব বিষয় অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য