রাজশাহীর বাঘায় স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ফসলী জমিতে রাতের আধারে পুকুর খনন

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজশাহীর বাঘায় স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ফসলী জমিতে রাতের আন্ধকারে পুকুর খনন করে চলেছে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী। প্রতিরাতেই থেকে ৬টি ভেকু মেশিন দিয়ে চলছে এই পুকুরটি খননের কাজ। দিনের আলো ফুটার আগেই আবার বন্ধ করে দেয়া হয় খনন কাজ। আর এভাবে পুকুর কাটায় আশেপাশের ফসলী জমিগুলো নষ্ট হয়ে যাবে বলে মনে করেন কৃষকরা। তাই তারা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন। ঘটনাটি ঘটছে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বেড়হাবাসপুর গ্রামে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ অবৈধভাবে পুকুর খননের অভিযোগ পেয়েও কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন। স্থানীয়রা জানায়, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বেড়হাবাসপুর গ্রামের রসুন মন্ডলের ছেলে এনামের হাবাসপুর বিল এলাকায় প্রায় ১২ বিঘা ফসলি জমি চার বছরের জন্য ১৩ লক্ষ টাকায় লিজ নেন একই উপজেলার পারসাওতা বিনোদপুর গ্রামের মৃত ভাদু মন্ডলের ছেলে অসিত মন্ডল। লিজ নেওয়া সেই জমি সরকারী অনুমতি ছাড়াই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার যোগসাজশে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে গোপনে রাতের অন্ধকারে মাটি কাটার মেশিন (ভেকু) দিয়ে খনন শুরু করেন। হাবাসপুর, মনিহারপুর সহ আশপাশের অনেক কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন আবাদি ফসলের মাঝখানের ওই ১২ বিঘা জমিতে পুকুর খনন হলে তাদের জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে এবং পুকুরের পাড় ভেঙে তাদের আবাদি জমির ক্ষতি সহ ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রেও তাদের সমস্যায় পড়তে হবে। এছাড়া পুকুর খননকারী অসিত মন্ডল এলাকার প্রভাবশালী বিত্তবান ব্যক্তি হওয়ায় মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না স্থানীয়রা। এলাকাবাসী আরও বলেন যেখানে স্থানীয় প্রশাসন তাদের হাতে সেখানে প্রকাশ্যে কথা বললে প্রশাসন দ্বারাই তারা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে মনে করেন। তাই স্থানীয়রা বিষয়টি প্রশাসনের উচ্চ পর্যারের কর্তারা দেখবেন এবং তাদের বিপদ থেকে রক্ষা করবেন বলে মনে করেন। বিষয়ে জমির লিজ গ্রহীতা অসিত মন্ডল জানায়, অনেক টাকা খরচ করে জমিটা লিজ নিয়েছেন তিনি। এই জমিতে ফসল আবাদ করে লাভবান হওয়ার কোন সম্ভবনা নাই। তাই জমির মালিকের অনুমতি সাপেক্ষে ফসলি জমিতে পুকুর খনন করেছেন। এছাড়াও খনন করা পুকুরের মাটি বিক্রি করেও কিছু আয় হবে। অবৈধ উপায়ে রাতের অন্ধকারে পুকুর খনন করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন সব কাজ বৈবভাবে করা যায়না। বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, অভিযোগ পেয়ে সহকারি কমিশনার (ভূমি) কে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধভাবে পুকুর খননকারীকে সেখানে পায়নি। তবে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিষয়ে তিনি এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য