সৈয়দপুরে আন্তঃনগর ট্রেন নীলসাগর থেকে ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার

মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর প্রতিনিধি:
সৈয়দপরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটীগামী আন্তঃনগর ট্রেন নীলসাগর এক্সপ্রেস থেকে এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রবিবার রাতে ওই ট্রেনের শীততাপ নিয়ন্ত্রিত নম্বর বগির কেবিনের ৪৪ নং আসন থেকে ওই লাশ উদ্ধার করে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানা পুলিশ। আজ সোমবার সকালে পরিচয় মিললে আনুষ্ঠানিকতা শেষে মৃতের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রেলওয়ে থানা পুলিশ জানায়, গতকাল রবিবার ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সকাল ১১ টার দিকে নীলফামারীর চিলাহাটির উদ্দেশ্যে নীলসাগর ট্রেনটি রওয়ানা দেয়। ওই ট্রেনের শীততাপ নিয়ন্ত্রিত নং বগির কেবিনের ৪৪ নং আসনের সৈয়দপুরের যাত্রী ছিলেন ঢাকার পুরানা পল্টন এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মাহবুব রশীদ মিল্টন (৫২) রাতে ট্রেনটি পার্বতীপুর রেল স্টেশন পার হলে দায়িত্বে থাকা এ্যাটেনডেন্ট ওবায়দুর রহমান ওই কেবিনের যাত্রীকে গন্তব্য জানাতে ডাকাডাকি করে। কিন্তু ভিতর থেকে ছিটকিনি আটকানো থাকায় এবং কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে ট্রেনে দায়িত্বে থাকা শান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশের টহল দলকে কেবিন না খোলার বিষয়টি জানায় সে। পরে টহল দলের সহকারি উপ-পরিদর্শক মো. শাহিনসহ অন্যান্যরা ওই বগিতে এসে বিশেষ কায়দায় কেবিন খুলে দেখতে পায় ওই যাত্রী তার আসনে মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে রাত পৌনে টার দিকে ট্রেনটি সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌছুলে মৃতের লাশ সৈয়দপুর রেলওয়ে থানায় হস্তান্তর করা হয়। এদিকে লাশের পরিচয় শনাক্ত করতে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানা পুলিশ তৎপরতা শুরু করে। তার পকেটে পাওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের সূত্র ধরে আজ সকালে ঢাকার পল্টন থানা পুলিশকে অবহিত করেন সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। পরে পল্টন থানা পুলিশ মৃতের জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানায় যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত করেন। পরে ঢাকায় বসবাসকারী মৃত যাত্রীর মেয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানা পুলিশকে লাশটি তার পিতার বলে সনাক্ত করেন।  ব্যাপারে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মৃতের পরিচয় মিলেছে। সে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের সাবেক সরকারি কর্মকর্তা মৃত মাহফুজ আহমেদের পুত্র এবং বিশিষ্ট হোমিও চিকিৎসক আলহাজ্ব ডা. মহেবুবুল আলমের চাচাতো ভাই। তিনি জানান, তার শরীরে কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সম্ভবত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সে মারা গেছে। তার সাথে থাকা নগদ ৬৭ হাজার টাকা, ল্যাপটপ, আইফোনসহ অন্যান্য মালামাল অক্ষত ছিল। আজ দুপুরে বদরগঞ্জ থেকে মৃতের আত্মীয়স্বজন এলে আনুষ্ঠানিকতা শেষে মৃতের লাশ হস্তান্তর করা হয়। ব্যাপারে থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য