ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলা সদর থেকে প্রায় এক মাইল পূর্বে বাচোর ইউনিয়নে কুলিক নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক রাজা টংকনাথের রাজবাড়ি। মার্বেল পাথরের মেঝে এবং কারুকাজখচিত দেওয়ালের এই প্রাচীন রাজভবনটির নির্মাণশৈলী বেশ আকর্ষণীয়। রাজবাড়ির পূর্ব পাশে অন্দরমহল, পশ্চিম দিকে সিংহদরজা এবং অপর প্রান্তে দুটি দিঘি রয়েছে। এছাড়া উত্তর-পূর্ব কোণে অবস্থিত লাল রঙের কাচারিবাড়ির স্থাপত্যে আধুনিকতার পাশাপাশি ভিক্টোরিয়ান অলংকরণের ছাপ রয়েছে। উনিশ শতকের শেষ ভাগে রাজা টংকনাথের পিতা বুদ্ধিনাথের আমলে রাজবাড়ির নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং বুদ্ধিনাথের মৃত্যুর পর রাজা টংকনাথ তা সম্পন্ন করেন। ইতিহাস থেকে জানা যায়, টংকনাথের পূর্বপুরুষরা জমিদার ছিলেন না। কাতিহার এলাকার এক নিঃসন্তান গোয়ালা জমিদারের মন্দিরে সেবায়তের কাজ করতেন বুদ্ধিনাথ। গোয়ালা জমিদার কাশি যাওয়ার সময় তাম্রপাতে দলিল করে যান যে তিনি ফিরে না এলে বুদ্ধিনাথ জমিদারির মালিক হবেন। তিনি ফিরে না আসায় বুদ্ধিনাথ জমিদারির মালিক হন। তবে কারও কারও মতে এই ঘটনা বুদ্ধিনাথের দু-এক পুরুষ আগেরও হতে পারে। জমিদার বুদ্ধিনাথের দ্বিতীয় ছেলে টংকনাথ ব্রিটিশ সরকারের আস্থা অর্জনের জন্য মালদুয়ার স্টেট গঠন করেন। সমাজসেবামূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯২৫ সালের ১৮ নভেম্বর ব্রিটিশ সরকার তাঁকে চৌধুরী উপাধিতে ভূষিত করে। কথিত আছে, টংকনাথের আমন্ত্রণে তৎকালীন ভাইসরয় এবং দিনাজপুরের মহারাজা গিরিজানাথ রায় রাণীশংকৈলে এলে তিনি টাকার নোট পুড়িয়ে অতিথিদের অভ্যর্থনা জানান এবং স্বর্ণালংকার উপহার দেন। এর ফলে ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে চৌধুরী এবং মহারাজা গিরিজানাথ রায়ের কাছ থেকে রাজা উপাধি লাভ করেন তিনি। রাজা টংকনাথের স্ত্রী রাণী শংকরী দেবীর নামানুসারে মালদুয়ার স্টেটের নাম রাণীশংকৈল রাখা হয়, যা বর্তমানে রাণীশংকৈল উপজেলা নামে পরিচিত। দেশভাগের আগে রাজা জমিদারি ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে এই বংশের জমিদারি পরম্পরার সমাপ্তি ঘটে। বর্তমানে এই রাজবাড়ির সৌন্দর্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসেন এবং ঈদের ছুটিতে হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসুর সমাগম ঘটে।
ঠাকুরগাঁওয়ের কুলিক নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক রাজা টংকনাথের রাজবাড়ি ও এর আকর্ষণীয় ইতিহাস নিয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন পুরো প্রতিবেদন।



0 মন্তব্যসমূহ