আব্দুল আলীম নোবেল:
শিক্ষা ব্যবস্থার এক অদ্ভুত ও নজিরবিহীন চিত্র দেখা গেছে কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাকিয়া সুলতানা মুক্তা গত দুই বছর ধরে কর্মস্থলে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত রয়েছেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই দীর্ঘ সময়েও তাঁর নিয়মিত বেতন-ভাতা ঠিকই উত্তোলন করা হচ্ছে! বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির যোগসাজসেই এই অনিয়ম বছরের পর বছর ধরে চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জাকিয়া সুলতানা মুক্তা এই বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই গ্রামের বাড়ি বগুড়ায় চলে যান। এরপর নানা অজুহাতে ও দীর্ঘ ছুটির আবেদন করে তিনি আর স্কুলেই ফেরেননি। বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত তাঁর এক প্রভাবশালী আত্মীয়ের ক্ষমতার জোর দেখিয়ে তিনি এই অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ প্রধান শিক্ষক ও স্কুল সভাপতির প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় তাঁর নামে নিয়মিত সরকারি কোষাগার থেকে বেতন ছাড় করা হচ্ছে। বিগত কয়েক বছর ধরে এই বিদ্যালয়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আসছেন সচেতন অভিভাবক মহল।
ঘটনাটির বিষয়ে জানতে পিএমখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক(ভারপ্রাপ্ত)
খালেদা ইয়াছমিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন, "আমি বিষয়টি সভাপতিকে জানিয়েছি, এখন কী করা হবে সে সিদ্ধান্ত দেবেন সভাপতি।"
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাহমিনা আক্তারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পুরো ঘটনাটি শোনার পর কোনো কথা না বলেই লাইন কেটে দেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক জাকিয়া সুলতানা মুক্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ছুটি নেওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ সুরে জানান, "এই রকম স্কুলে আরও দীর্ঘদিন না আসলেও আমার কিছু করতে পারবে না।
এমনকি এই বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আব্দুল মান্নানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি একে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
সচেতন মহলের প্রশ্ন—যে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি স্বয়ং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), সেখানে এমন প্রকাশ্য অনিয়ম ও সরকারি অর্থ তছরুপ কীভাবে বছরের পর বছর চলতে পারে? কর্তৃপক্ষের এমন নীরবতা ও উদাসীনতাই কি তবে আমাদের ভেঙে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি? দ্রুত এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও সচেতন অভিভাবকরা।
কক্সবাজারের পিএমখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাকিয়া সুলতানা মুক্তার বিরুদ্ধে দুই বছর অনুপস্থিত থেকেও বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের আশ্বাস জেলা প্রশাসকের।



0 মন্তব্যসমূহ