চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। চলতি বছর বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ, যা গত ১৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। পাশাপাশি গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম মাত্র ২ হাজার ৯২৯ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। শনিবার বোর্ড মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী। ফলাফল প্রকাশের দিন জানানো হয়, ২৮৩টি কলেজের ৯৯ হাজার ৮৭৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫০ হাজার ১৬৬ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৯৬ জন ছাত্রী এবং ১ হাজার ৩৩৩ জন ছাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছেন। গত বছর জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৯৭। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২ হাজার ১১১৪ জন মাত্র এক বিষয়ে ফেল করেছেন, ৩ হাজার ৫৪৪ জন অনুপস্থিত ছিলেন এবং একজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া তিনটি কলেজের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে না পারলেও ছয়টি কলেজের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৭৪ দশমিক ৪২ শতাংশ, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫৪ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং মানবিক বিভাগে সবচেয়ে কম ৩৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। সার্বিক ফলাফল বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে অকৃতকার্যের উচ্চ হারকে দায়ী করা হয়েছে। ইংরেজিতে ৩৪ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং আইসিটিতে ২৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করেছেন। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী জানান, আইসিটি বিষয়ে অনেক কলেজে শিক্ষক সংকট এবং খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করানোর পাশাপাশি ইংরেজিতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দুর্বলতা এই ফলাফলের জন্য দায়ী। এছাড়া রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের মতো পাহাড়ি জেলাগুলোতেও পাসের হার বেশ কমেছে। অন্যদিকে, সব বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্র, রুব্রিক্স পদ্ধতিতে মূল্যায়ন, দীর্ঘ বিরতি এবং ২০১৯ সালের পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা হওয়াও ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বোর্ড সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন জানিয়েছেন, জিপিএ-৫ কেন এত কমল তা গবেষণার বিষয় এবং দ্রুতই এর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা হবে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ১৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ পাসের হার এবং জিপিএ-৫ কমে ২ হাজার ৯২৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ইংরেজি ও আইসিটিতে ফেলের হার বৃদ্ধি এবং রুব্রিক্স পদ্ধতিতে মূল্যায়নকে ফলাফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে বোর্ড।



0 মন্তব্যসমূহ