যৌতুকের দাবিতে শারীরিক নির্যাতন ও পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে হত্যার দায়ে আব্দুর রউফ সরদার নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। সোমবার সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর শেখ আলমগীর আশরাফ। দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রউফ সরদার কালিগঞ্জ উপজেলার ঘোনা গ্রামের আব্দুল্লাহ সরদারের ছেলে এবং নিহত সাবিনা ইসলাম (২৬) ও তার শিশুসন্তান আয়শা সিদ্দিকার বাড়ি একই উপজেলার তারালী সরদারপাড়ায়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে সাবিনার সঙ্গে আব্দুর রউফের বিয়ের পর থেকেই আসামির মায়ের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা ও একটি মোটরসাইকেল যৌতুক দাবি করা হয় এবং নির্যাতন চালানো হয়। দাবি পূরণ না হওয়ায় সাবিনা তার মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় সাবিনা ইসলাম ও আয়েশা সিদ্দিকাকে খাটের ওপর মৃত অবস্থায় দেখতে পান নিহতের মা জাহানারা খাতুন। এ ঘটনায় জাহানারা খাতুন বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করলে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় চিকিৎসক, তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটসহ মোট ১২ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন এবং আসামির ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। সাক্ষ্যপ্রমাণ ও শুনানি শেষে আদালত এই রায় দেন।
যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে হত্যার দায়ে সাতক্ষীরায় এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড ও জরিমানা প্রদান করেছেন আদালত।



0 মন্তব্যসমূহ