Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

জমি লিখে না দিলে কবর দিতে না দেওয়ার হুমকির অভিযোগ কৃষক দল নেতার বিরুদ্ধে

জমি লিখে না দিলে কবর দিতে না দেওয়ার হুমকির অভিযোগ কৃষক দল নেতার বিরুদ্ধে

ফরিদপুরে জোরপূর্বক জমি লিখে নেওয়ার চেষ্টা, নানাভাবে হয়রানি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা সুলায়মান হোসাইনের বিরুদ্ধে। ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের নিখুরদী গ্রামের ৮২ বছর বয়সী বাসিন্দা আলতাফ হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন। ফরিদপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে আলতাফ হোসেন বলেন, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক সুলায়মান ৫ আগস্টের পর থেকে জমি দখল ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছে। প্রায় ৫৯ শতক জমি লিখে দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। সালিস এবং আদালতের লড়াইয়ে হেরে যাওয়ার পরও এই চাপ অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেন আলতাফ। আলতাফ হোসেনের ছোট ছেলে ইউসুফ হোসেন নূর মাগুরায় পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক হিসেবে কর্মরত আছেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় ছেলেকে চাকরিচ্যুত করতে সুলায়মান সর্বোচ্চ মহলে তদবির করছেন বলে অভিযোগ করা হয়। ইউসুফ নূর বাদী হয়ে ২০২৩ সালে ভূমি প্রতিরোধ আইনে সুলায়মানের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। এর জেরে জুলাই আন্দোলনে তাঁর ছেলের নামে মিথ্যা হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে এবং কর্মস্থলে গিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করা হচ্ছে বলে জানান আলতাফ হোসেন। সাম্প্রতিক সময়ে ভূমি প্রতিরোধ আইনের মামলায় আদালত সুলায়মানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। গত ৮ জুলাই কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক সমীর কুমার দাস পরোয়ানা তামিল করতে গেলে সুলায়মান তাঁকে বরখাস্তের হুমকি ও গালমন্দ করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এ সময় একটি অডিও রেকর্ডও উপস্থাপন করা হয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে আলতাফ হোসেন বলেন, সাদা কাগজে স্বাক্ষর না দিলে মৃত্যুর পর কবরে মাটি দিতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কৃষক দল নেতা সুলায়মান বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো বানোয়াট। জমিগুলোর বিষয়ে তাঁর বাবার নামে বৈধ দলিল রয়েছে এবং বাবার মৃত্যুর পর আলতাফ হোসেনরা সেই জমি দখল করে নেন। বৈধ জমি বুঝে নিতে গেলে বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া আদালতে বণ্টন মামলা চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি। ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক সমীর কুমার জানান, ৮ জুলাই রাতে পরোয়ানা তামিল করতে গেলে সুলায়মান উগ্র আচরণ করেন এবং পরবর্তীতে ফোনে এক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলান। পরদিন সুলায়মান আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তাঁর জানা নেই। তবে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কেউ অন্যায় করলে দল খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি।

সংক্ষেপে:
ফরিদপুরে জমি লিখে নেওয়ার জন্য হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে কৃষক দল নেতা সুলায়মানের বিরুদ্ধে। প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিরাপত্তা দাবি করেছেন এক বৃদ্ধ।
জমি লিখে না দিলে কবর দিতে না দেওয়ার হুমকির অভিযোগ কৃষক দল নেতার বিরুদ্ধে

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ