কুমিল্লার দেবিদ্বারে ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রায় ৩০ জন নারীর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরবর্তীতে ওই অর্থ উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের মধুমুড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত মহিউদ্দিন সরকার ওই এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ও মেম্বার প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। গত শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা এবং ভুক্তভোগী নারীদের সঙ্গে কথা বলেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর মহিউদ্দিন সরকারকে ডেকে এনে তার কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের ফেরত দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী নারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মহিউদ্দিন সরকার ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ছবি এবং জনপ্রতি ৩০০ টাকা হাতিয়ে নেন। এছাড়া কার্ড পাওয়ার পর আরও ২ হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানানো হয়েছিল। এভাবে মধুমুড়া গ্রামের অন্তত ৩০ জনের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী সুমি বেগমসহ কয়েকজন নারী জানান, কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেওয়া হলেও তাদের কাউকেই কার্ড দেওয়া হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন জানান, মহিউদ্দিন সরকারের নাম প্রথমে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রাথমিক তালিকায় থাকলেও পরে তাকে দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও তিনি নিজেকে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও ছাত্রদল নেতা পরিচয় দিয়ে গ্রামের অসহায় নারীদের কাছ থেকে টাকা নেন এবং বিষয়টি কাউকে না জানাতে প্রতিশ্রুতি নেন। তিনি এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন। গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের সুপারভাইজার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ফ্যামিলি কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয় এবং এর জন্য কারও কাছ থেকে ফি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই কর্মসূচির নাম করে অর্থ আদায় করা সম্পূর্ণ প্রতারণা ও আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে মহিউদ্দিন সরকার দাবি করেন, কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি এবং তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পরবর্তীতে তিনি ফোনের সংযোগ কেটে দেন এবং একাধিকবার কল করলেও আর সাড়া দেননি। দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন জানান, দরিদ্র পরিবারের জন্য সরকার বিনামূল্যে ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে এবং এই সুযোগে কেউ অসৎ উপায় অবলম্বন করলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। মধুমুড়া গ্রামে নারীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানার পর তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়েছেন। দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়ের তথ্য পাওয়ার পর তিনি এলাকা পরিদর্শন করে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের টাকা ফেরত দেন। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় জনগণকে সচেতন করতে এলাকায় মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং যিনি টাকা নিয়েছেন তিনি প্রতারণা করেছেন, তাই তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কুমিল্লার দেবিদ্বারে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৩০ নারীর কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেই টাকা উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।



0 মন্তব্যসমূহ