চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পৃথক দুটি অপরাধমূলক ঘটনায় এক স্কুলছাত্রীকে ছুরিকাঘাত করে কানের দুল ও চেইন ছিনতাই এবং এক গৃহবধূকে মলম পার্টির কবলে ফেলে সর্বস্ব লুটের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা এলাকায় কিশোর গ্যাং ও মাদকের দৌরাত্ম্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের জাফরনগর অপর্ণাচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী লামিয়া সুলতানা (১৭) ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্রী এবং পৌরসভার নুনাছাড়া এলাকার জহুরুল আলমের কন্যা। দুর্গাপূজার বন্ধের মধ্যেও আসন্ন এসএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সে প্রাইভেট পড়তে স্কুলে যাচ্ছিল।
আহত ছাত্রীর বড় বোন রুমা আক্তার জানান, স্কুল বন্ধ থাকায় চারপাশ নির্জন ছিল। এই সুযোগে মাস্ক ও ক্যাপ পরিহিত দুই কিশোর সিএনজিতে এসে তার বোনের পথরোধ করে গলায় ছুরি ধরে কানের দুল ও গলার চেইন ছিনিয়ে নেয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। তিনি আরও দাবি করেন, এর আগেও একই কিশোররা তার বোনের পথ আটকে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল এবং বিষয়টি কাউকে না জানাতে হুমকি দিয়েছিল। ভুক্তভোগী ছাত্রী বিষয়টি শিক্ষককে জানানোর কারণেই এই হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে তার ধারণা।
অন্যদিকে, একই দিন সকাল ৯টার দিকে পৌরসভা এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসংলগ্ন পন্থিছিলা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় দুই সন্তানকে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বিবি রহিমা (৩২) নামের এক গৃহবধূ ছিনতাইয়ের শিকার হন। তিনি একই এলাকার পুলিশ সদস্য রবিউল ইসলামের স্ত্রী।
গৃহবধূর স্বামী রবিউল ইসলাম জানান, তার স্ত্রী মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় ওঠার পরপরই কয়েকজন কিশোর তাকে চেপে ধরে এবং চোখে মলম লাগিয়ে অজ্ঞান করে ফেলে। পরে দুর্বৃত্তরা তার সঙ্গে থাকা একটি মোবাইল ফোন ও একজোড়া কানের দুল নিয়ে পুনরায় একই স্থানে তাকে ফেলে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ ঘটনায় তিনি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জাফরনগর অপর্ণাচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. জাহেদ বলেন, ঘটনার কিছুদিন আগে কিছু অজ্ঞাত কিশোর লামিয়া সুলতানাকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল এবং বিষয়টি শিক্ষার্থী তাকে জানিয়েছিল। তবে ওই কিশোরদের পরিচয় তিনি জানেন না।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. জাহেদের বিষয়ে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর থেকে তিনি ও সংশ্লিষ্টরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মইনুল ইসলাম দুটি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পৃথক দুটি ঘটনার অভিযোগ হাতে পাওয়া গেছে এবং ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশি তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সীতাকুণ্ডে কিশোর গ্যাংয়ের পৃথক দুটি হামলায় স্কুলছাত্রী ছুরিকাঘাতের শিকার এবং গৃহবধূর চোখে মলম লাগিয়ে মোবাইল ও কানের দুল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।



0 মন্তব্যসমূহ