পাকিস্তানের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত বৃহস্পতিবার মানবাধিকার আইনজীবী ইমান মাজারি ও তাঁর স্বামী হাদি আলী চাথাকে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। দম্পতির পরিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আদিয়ালা কারাগারে বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন, যেখানে চলতি বছরের শুরু থেকে এই দম্পতি বন্দি রয়েছেন। এর পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের কাজে বাধা প্রদান এবং হামলার পৃথক অভিযোগে আদালত তাঁদের যথাক্রমে এক ও দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে এই দণ্ডের মেয়াদ একসঙ্গে কার্যকর হবে। রাজনৈতিক কর্মীদের গুমের প্রতিবাদ এবং সংখ্যালঘু ও সাংবাদিকদের পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখার সুবাদে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জনকারী এই দম্পতির কারাদণ্ডে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করে এর নিন্দা জানিয়েছে। ২০২৪ সালের একটি মামলায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা পরিকল্পনা বিপন্ন করার অভিযোগ আনা হয় তাঁদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ ছিল, তারা বিক্ষোভ ডেকে সড়ক অবরোধ করেছিলেন। তবে রয়টার্সের কাছে পাঠানো বিবৃতিতে তাঁরা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে জানান যে তাঁরা বিবেকের কারণে বন্দি এবং মানবাধিকার রক্ষার কাজের জন্যই তাঁদের নিশানা করা হয়েছে। পাকিস্তানের আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার দাবি করেছেন যে বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। অন্যদিকে, সাবেক মন্ত্রী ও ইমানের মা শিরিন মাজারি রয়টার্সকে জানান, এই দম্পতিকে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় আইনি নথি দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে সরকারি কৌঁসুলির মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রাষ্ট্রবিরোধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের অভিযোগে গত ২৩ জানুয়ারি গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই তাঁরা কারাগারে রয়েছেন। প্রিভেনশন অব ইলেকট্রনিক ক্রাইমস অ্যাক্ট অনুযায়ী নিম্ন আদালত তাঁদের ১৭ বছরের কারাদণ্ড দিলেও ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট তা স্থগিত করেন। সেদিনই নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অন্য একটি মামলায় তাঁদের পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। ইমানের মা জানান, তাঁরা এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন।
পাকিস্তানের একটি আদালত মানবাধিকার আইনজীবী ইমান মাজারি ও তাঁর স্বামীকে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।



0 মন্তব্যসমূহ