সম্প্রতি নেপাল ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগের সময় বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের বিরুদ্ধে তিন নারীর বিদেশযাত্রা আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিদেশযাত্রায় বাধা পাওয়া অবিবাহিত ওই তিন নারী জানান, বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের ফোন করে তাঁদের বিদেশ ভ্রমণ ও পেশা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় এবং পোশাক, আর্থিক সামর্থ্য ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়। এছাড়া ইমিগ্রেশন পুলিশের একজন সদস্য তাঁদের বলেছেন, অবিবাহিত মেয়েরা একা দেশের বাইরে যেতে পারবে না। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মমতাজ পারভীন জানান, বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা, সঠিক বিমান টিকিট, হোটেল রিজার্ভেশন এবং ভ্রমণের বৈধ উদ্দেশ্য থাকার পরও যদি কোনো নাগরিকের বিদেশ যাত্রায় বাধা দেওয়া হয়, তবে তা সম্পূর্ণ বেআইনি। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে বলা হয়েছে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা ছাড়া কোনো নাগরিকের বৈধ বিদেশ ভ্রমণ আটকে দেওয়া যাবে না। ইমিগ্রেশন আইন অনুযায়ী, অফিসাররা পাসপোর্ট, ভিসা ও টিকিট যাচাই করতে পারেন এবং মানব পাচারের মতো ঝুঁকি থাকলে আইনসম্মত প্রশ্ন করতে পারেন। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবন, বিবাহিত বা অবিবাহিত হওয়া কিংবা অভিভাবক জানেন কি না, এসব বিষয় ইমিগ্রেশনে বিবেচ্য নয়। সংবিধানের ২৭, ২৮, ৩১, ৩২ ও ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের সমান অধিকার, চলাফেরা এবং দেশ ত্যাগের মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত রয়েছে। ইমিগ্রেশনে হয়রানির শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে তর্ক না করে শান্ত থেকে অফিসারের নাম, পদবি, ব্যাজ নম্বর, ঘটনার সময় ও কাউন্টার নম্বর নোট করতে হবে। এছাড়া বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনের ২৪ ঘণ্টার হটলাইন নম্বরে (০১৩২০০০৭৫৮৮) কল করে, শিফট ইনচার্জ বা ওসির কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে, পুলিশের ইমিগ্রেশন কমপ্লেন পেজে অনলাইনে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ে অথবা জাতীয় অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রতিকার চাওয়া যাবে। কোথাও প্রতিকার না মিললে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্টে রিট দায়ের করার সুযোগ রয়েছে।
বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনে নারীদের বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার ঘটনায় উঠেছে নানা প্রশ্ন। ইমিগ্রেশনে হয়রানি রোধে আইনি বিধান, যাত্রীদের অধিকার এবং প্রতিকার পাওয়ার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।



0 মন্তব্যসমূহ