কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে শরৎকালের অপরূপ রূপ ফুটে উঠেছে। নীল আকাশ, সাদা মেঘের ভেলা আর নদীর দুই তীরে সারি সারি সাদা কাশফুলের সমারোহে প্রকৃতি সেজেছে নতুন সাজে। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র নদের সেতুসংলগ্ন বিশাল কাশবনজুড়ে এই শুভ্রতার ঢেউ দেখতে প্রতিদিনই নানা বয়সী মানুষ ভিড় করছেন। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বা বন্ধুবান্ধব কিংবা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে সময় কাটাচ্ছেন। কাশবনের ভেতর হাঁটাচলা, ছবি তোলা এবং ভিডিও করার মধ্য দিয়ে দর্শনার্থীরা শরৎকালের এই সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই স্থানের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দূর-দূরান্ত থেকেও অনেক মানুষ ঘুরতে আসছেন। বিকেলের সময়ে সূর্যের নরম আলোয় চরাঞ্চল সোনালি-সাদা ক্যানভাসে রূপ নেয়, যা দর্শনার্থীদের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দেয়। দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ার ফলে শুধু সাধারণ মানুষই নয়, স্থানীয়দের জন্যও আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। নদীপথে দর্শনার্থীদের ঘোরানোর জন্য বর্তমানে প্রায় ১০ থেকে ১৫টি নৌকা চালু রয়েছে। স্থানীয় মাঝি কামাল মিয়া জানান, কাশফুল দেখতে আসা যাত্রীদের নৌকায় ঘুরিয়ে প্রতিদিন তাদের ভালো আয় হচ্ছে। এ ছাড়া কাশবনের চারপাশে অস্থায়ী খাবার ও পানীয়ের দোকান গড়ে উঠেছে এবং ছোট ব্যবসা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল হাসান শাহিন মিয়া জানান, প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ফুল ফোটা শুরু হয়ে নভেম্বর পর্যন্ত এই এলাকায় দর্শনার্থীদের আনাগোনা থাকে। শহরের কাছাকাছি এবং নিরাপদ হওয়ায় এই চরাঞ্চল এখন শরতের অন্যতম দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের ব্রহ্মপুত্র নদের চরে কাশফুলের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। শরতের এই মায়াবী আবহে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।



0 মন্তব্যসমূহ