কুখ্যাত যৌন নির্যাতনকারী জেফরি এপস্টেইনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তার ময়নাতদন্তের নথি পর্যালোচনা করা এক ফরেনসিক চিকিৎসাবিদ জানিয়েছেন, এপস্টেইনের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যা ও হত্যাকাণ্ড—দুটি সম্ভাবনাই বিবেচনার দাবি রাখে। এপস্টেইনের ভাই মার্ক এপস্টেইন সংবাদমাধ্যমকে জানান, ফরেনসিক চিকিৎসাবিদ মাইকেল ফ্রিম্যান তার ভাইয়ের ময়নাতদন্তের নথি বৈজ্ঞানিকভাবে পর্যালোচনা করেছেন। আগামী ১৬ নভেম্বর লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজে এ বিষয়ে তিনি তার গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করবেন। এরপর গবেষণা ও নিউইয়র্ক নগরীর প্রধান চিকিৎসা পরীক্ষকের ময়নাতদন্তের নথি প্রকাশ করা হবে। মার্ক এপস্টেইন বলেন, ফ্রিম্যানের বিশ্লেষণ তার এই বিশ্বাসকে আরও জোরালো করেছে যে, তার ভাইয়ের মৃত্যুর বিষয়ে আরও গভীর তদন্ত প্রয়োজন ছিল। তার দাবি, এ ধরনের বিশ্লেষণ আগে করা হলে হয়তো মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে চূড়ান্ত করা হতো না। মার্ক আরও উল্লেখ করেন, এই প্রতিবেদনটি তার অনুরোধে করা হয়নি, গবেষকরা নিজেদের উদ্যোগেই কাজটি করেছেন। ফ্রিম্যানের পর্যালোচনায় এপস্টেইনের মৃত্যুর তদন্তে বেশ কিছু বিষয়কে অস্বাভাবিক বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মৃত্যুর ঘটনাস্থলে মরদেহের কোনো ছবি না থাকা এবং ফাঁসের উপকরণ বা কাপড় সংরক্ষণ ও পরীক্ষা না করা। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী বিছানার চাদর ব্যবহার করে ফাঁস দেওয়া হয়েছিল। ফ্রিম্যান ফাঁসের দাগের ধরন নিয়ে শারীরিক গতিবিদ্যার বিশ্লেষণ করেছেন এবং চিকিৎসা পরীক্ষকের প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করা হয়নি এমন কিছু আঘাতের চিহ্ন থাকা ছবিও পর্যালোচনা করেছেন। তবে তিনি এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি এবং ১৬ নভেম্বর তার বক্তব্যে উভয় সম্ভাবনার পক্ষে থাকা প্রমাণের গুরুত্ব তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন। মাইকেল ফ্রিম্যান ফরেনসিক চিকিৎসাবিদ্যা পড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক একটি ফরেনসিক ও আইনবিষয়ক চিকিৎসা সাময়িকীর প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৯ সালে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন পাচারের অভিযোগে ফেডারেল মামলার মুখোমুখি থাকা অবস্থায় কারাগারে মারা যান জেফরি এপস্টেইন। তখন নিউইয়র্কের চিকিৎসা পরীক্ষকের কার্যালয় তার মৃত্যুকে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা বলে ঘোষণা করেছিল। সম্প্রতি এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি প্রকাশের আইন কার্যকর হওয়ার পর তার সঙ্গে যুক্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এর আগে মে মাসে এক ফেডারেল বিচারক এপস্টেইনের মৃত্যুর আগে লেখা একটি সম্ভাব্য আত্মহত্যার চিঠি প্রকাশের নির্দেশ দেন। এপস্টেইনের সাবেক কারাবন্দি নিকোলাস টারটাগ্লিওনি দাবি করেছিলেন যে, এপস্টেইনের মৃত্যুর পরের দিন সকালে একটি বইয়ের ভেতর ওই চিঠিটি পেয়ে তিনি তার আইনজীবীদের দিয়েছিলেন। হাতে লেখা ওই চিঠিতে বিদায় বলার কথা এবং কোনো আনন্দ না থাকার বিষয়টি উল্লেখ ছিল। নতুন এই ফরেনসিক বিশ্লেষণ সামনে আসার পর এপস্টেইনের মৃত্যুকে ঘিরে পুরোনো প্রশ্ন ও বিতর্কগুলো আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।
জেফরি এপস্টেইনের মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, নতুন ফরেনসিক বিশ্লেষণে তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।



0 মন্তব্যসমূহ