আফ্রিকা মহাদেশের অন্যতম শীর্ষ দুধ উৎপাদনকারী দেশ কেনিয়ায় বর্তমানে তীব্র দুধের সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে দেশটির সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার পাশাপাশি রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরাও বিপাকে পড়েছেন। রাজধানী নাইরোবির রেস্তোরাঁ মালিক মুথোনি মাচারিয়া জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চাহিদামতো দুধ না পাওয়ায় তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এই সংকটের কারণ হিসেবে কেনিয়া সরকার মূলত দীর্ঘস্থায়ী খরাকে দায়ী করেছে। সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় চারণভূমি কমে গেছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে গোখাদ্যের দাম প্রায় ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে এবং দুধের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
তবে এই পরিস্থিতির জন্য সরকারের অব্যবস্থাপনাকেও দায়ী করছে দেশটির ভোক্তা অধিকার সংস্থা কোফেক। সংস্থাটির দাবি, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যাপ্ত দুধ সংরক্ষণ করলে এই সংকট এড়ানো সম্ভব হতো। সংকট মোকাবিলায় খামারিদের ভর্তুকি ও গোখাদ্য সরবরাহের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জনাথন মুয়েকে জানিয়েছেন, দুধ সংরক্ষণে সহায়তার জন্য সরকার একটি বিশেষ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করছে। এছাড়া বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে সাময়িকভাবে দুধ আমদানির বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
আফ্রিকায় দুধ উৎপাদনে শীর্ষে থাকা কেনিয়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র দুধের সংকট। খরা ও গোখাদ্যের দাম বাড়ায় ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতিবেশী দেশ থেকে দুধ আমদানির কথা ভাবছে দেশটির সরকার।



0 মন্তব্যসমূহ