কলকাতায় আনন্দবাজার পত্রিকার দপ্তরের সামনে গেরুয়া পোশাকধারীদের বিক্ষোভ এবং ভবনের প্রবেশপথের স্তম্ভে গেরুয়া রং লাগানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একটি সংবাদ প্রতিবেদনের শিরোনাম নিয়ে আপত্তি থেকেই এই ঘটনাপ্রবাহের সূত্রপাত। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শব্দবন্ধ ব্যবহারের প্রতিবাদে সরব হয় হিন্দুত্ববাদী মহলের একাংশ। তাদের দাবি, ‘গেরুয়া’ শব্দটির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য রয়েছে এবং সেটিকে ‘গুন্ডামি’র সঙ্গে যুক্ত করা আপত্তিকর। এই বিতর্কের জেরে গত ২৯ আগস্ট বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে পত্রিকা কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। এরপর ১ সেপ্টেম্বর প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিটে পত্রিকার দপ্তরের সামনে একদল ব্যক্তি বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং দপ্তরের প্রবেশপথের দুটি স্তম্ভে গেরুয়া রং লাগিয়ে দেন। তবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, এই বিক্ষোভের সঙ্গে দলের কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই এবং সংবাদমাধ্যমের দপ্তরে এ ধরনের আচরণকে দল সমর্থন করে না। বিষয়টি বর্তমানে কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার শুনানিতে রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা তদন্তে সহযোগিতা করলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। সাংবাদিক সংগঠনগুলো এই ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সংবাদপত্রের একটি শিরোনামকে কেন্দ্র করে কলকাতায় আনন্দবাজার দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ ও স্তম্ভে গেরুয়া রং লাগানোর ঘটনায় বিতর্ক তুঙ্গে। বিষয়টি এখন আদালত ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।



0 মন্তব্যসমূহ