যুক্তরাষ্ট্রের ৬৬ বছর বয়সী নাগরিক টিম অ্যান্ড্রুস শূকরের কিডনি শরীরে নিয়ে দীর্ঘ ২৭১ দিন বেঁচে থাকার এক অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এই ব্যক্তির দুটি কিডনিই অকেজো হয়ে গিয়েছিল। মানব কিডনি পাওয়ার দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে তার জীবন যখন সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে, তখন চিকিৎসকরা তার শরীরে জিনগতভাবে পরিবর্তিত একটি শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানবদেহে ব্যবহারের উপযোগী করতে গবেষকরা ইউকাটান প্রজাতির ক্ষুদ্রাকৃতির শূকরের কিডনিতে ৬৯টি জিনোমিক পরিবর্তন ঘটান। এই পরিবর্তনের ফলে মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অঙ্গটিকে প্রত্যাখ্যান করা থেকে বিরত থাকে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমে যায়। অ্যান্ড্রুস এই কিডনি নিয়ে টানা ৯ মাস কোনো ডায়ালাইসিস ছাড়াই সুস্থ জীবন যাপন করেছেন, যা প্রাণীর অঙ্গ মানবদেহে প্রতিস্থাপনের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময়।
তবে ৯ মাস পর প্রতিস্থাপিত কিডনিটি বিকল হতে শুরু করলে চিকিৎসকরা তার শরীরে এক মৃত ব্যক্তির কিডনি পুনরায় প্রতিস্থাপন করেন। বর্তমানে তিনি মানুষের কিডনি নিয়েই সুস্থ আছেন। এর আগে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন করা অন্য এক ব্যক্তি মাত্র ৫২ দিন বেঁচে ছিলেন। অ্যান্ড্রুসের এই দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকার ঘটনাটি চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
মার্কিন নাগরিক টিম অ্যান্ড্রুস শূকরের কিডনি নিয়ে ২৭১ দিন বেঁচে থাকার রেকর্ড গড়েছেন। ৯ মাস পর কিডনিটি বিকল হলে তাকে আবার মানুষের কিডনি দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।



0 মন্তব্যসমূহ