গত দুই দশকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (কেইপিজেড) বিদেশি ও স্থানীয় বিনিয়োগ চারশ গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার পারভেজ বাসসকে জানান, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে ১ দশমিক ৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ নিয়ে এই অঞ্চলের যাত্রা শুরু হয়েছিল। চলতি বছরের আগস্ট মাস পর্যন্ত মোট বিনিয়োগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮৭ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন ডলারে। তিনি উল্লেখ করেন, কেইপিজেডে বর্তমানে ২৫৮টি শিল্প প্লট রয়েছে, যার প্রতিটির আয়তন দুই হাজার বর্গমিটার। বড়, মাঝারি ও ছোট মিলিয়ে এখানে মোট ৪০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ২৯টি শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন, তিনটি যৌথ বিনিয়োগের এবং আটটি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের পরিচালিত। এছাড়া প্রায় ৪৯ হাজার ৭৯৮ বর্গমিটার ফ্লোর স্পেসজুড়ে আরও পাঁচটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাস্তবায়নের কাজ চলছে। বাংলাদেশসহ চীন, তাইওয়ান, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা, জাপান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার মতো ১৪টি দেশের উদ্যোক্তারা এখানে বিনিয়োগ করেছেন। ২০০৬ সালে কার্যক্রম শুরুর পর ২০০৭ সালের নভেম্বরে এই অঞ্চল থেকে পণ্য রপ্তানি শুরু হয়। প্রথম অর্থবছর অর্থাৎ ২০০৭-০৮ সালে ৯ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত মোট ১৪ হাজার ১৫৬ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। কেইপিজেডের কারখানায় তৈরি পোশাকের পাশাপাশি তাঁবু ও ক্যাম্পিং সরঞ্জাম, বাইসাইকেল, চামড়াজাত পণ্য, আসবাবপত্র, ব্যাগ, ফ্যাশন পোশাক এবং সেফটি স্যুট উৎপাদিত হয়। বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জন্য তৈরি এসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। কেইপিজেডের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বেপজার নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, পণ্যের বহুমুখীকরণই এই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ। বিশ্বমানের পণ্যের বহুমুখীকরণের মাধ্যমেই সিংহভাগ রপ্তানি আয় এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম স্টিল মিলস লিমিটেডের পরিত্যক্ত জমিতে এই বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হয়। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও লোকসানের মুখে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৮ সালে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে কেইপিজেড প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উপস্থিতিতে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছিল।
দুই দশকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে বিদেশি ও স্থানীয় বিনিয়োগ চার শতাধিক গুণ বেড়েছে। বর্তমানে এই শিল্পাঞ্চলে বিভিন্ন দেশের উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করেছেন এবং উৎপাদিত পণ্য বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।



0 মন্তব্যসমূহ