মো: আ. আল ফয়সাল মিয়া, নীলফামারীঃ
উত্তরবঙ্গ সফরের অংশ হিসেবে নীলফামারীর ঐতিহাসিক সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা ও এলাকার বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন।
বিকেল ৩:৩০ মিনিটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত কারখানায় পৌঁছালে তাঁকে পুষ্পস্তবক দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান, কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ এবং জুনিয়র পার্সোনাল অফিসার (জিপিও) নূর ই আলম। পরিদর্শনের সময় রাষ্ট্রদূতের সহধর্মিণী ডিয়ান ডাও এবং সৈয়দপুর ইউএনও ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ঐতিহ্যবাহী রাজকীয় প্রেসিডেন্ট সেলুন কোচে (১২৬৫) আরোহণ করেন এবং এর ভেতরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। পরবর্তীতে তিনি কারখানার প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং দেশের প্রাচীনতম এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও মেরামত সক্ষমতা সরজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
১৮৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের বৃহত্তম এই রেলওয়ে ওয়ার্কশপের বিভিন্ন শপ, কোচ এবং ভ্যান মেরামত প্রক্রিয়া ঘুরে দেখেন রাষ্ট্রদূত। বাংলাদেশের যোগাযোগ খাতে কারখানাটির ঐতিহাসিক অবদান ও কারিগরি দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
রেলওয়ে কারখানার পাশাপাশি তিনি সৈয়দপুর রেলওয়ে জাদুঘর, স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন ঐতিহাসিক চিনি মসজিদ এবং স্থানীয় একটি খ্রিস্টান চার্চ পরিদর্শন করেন।
তিনি পরিদর্শনের সময় বাংলাদেশের রেলখাতের আধুনিকায়ন, নিরাপদ পরিবহনব্যবস্থা গঠন এবং সম্ভাব্য কারিগরি সহযোগিতা নিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। কারখানা পরিদর্শন শেষে স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে কার্যালয় প্রাঙ্গণে দুটি গাছের চারা রোপণ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
রাষ্ট্রদূতের আগমনকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সৈয়দপুর কারখানা ও সংলগ্ন এলাকায় নিচ্ছদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রদূত সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



0 মন্তব্যসমূহ