টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নে পুলিশের এক কর্মকর্তার প্রভাব খাটিয়ে এক প্রবীণের পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত ৪০ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে জবরদখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের দাবি, প্রায় এক দশক ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারণে নিজের ভিটেমাটিতে প্রবেশ করতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। এ ঘটনায় বর্তমানে ঢাকায় পুলিশের কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে কর্মরত মোহাম্মদ আইয়ুবের প্রভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাবরাং মণ্ডলপাড়ার মৃত নুর আহমেদের ছেলে মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম ২০১০ সালে নিজের নামে থাকা পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত ৪০ শতক সুপারি বাগানসহ ভিটে জমি স্থানীয় মৃত জাফর আলমকে লাগিয়ত দেন। প্রথম পাঁচ বছর চুক্তি অনুযায়ী লাগিয়তের অর্থ পরিশোধ করা হলেও এরপর থেকে আর কোনো অর্থ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ সিরাজুল ইসলামের।
ভুক্তভোগীর দাবি, ২০২২ সালে জাফর আলমের মৃত্যুর পর তার ছেলে মোস্তফা আমির এবং মেয়ের জামাই ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন এবং পুরো জমিটি জবরদখলে নেন।
জমি উদ্ধারের চেষ্টা হিসেবে ২০২০ সালের ৮ মে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে বিচারপ্রার্থী হন সিরাজুল ইসলাম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সালিশ বৈঠকে প্রতিপক্ষ জমির মালিকানার পক্ষে বৈধ কোনো কাগজপত্র উপস্থাপন করতে না পারায় তৎকালীন চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের পক্ষে রায় দেন। তবে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ তার।
পরবর্তীতে সিরাজুল ইসলাম কক্সবাজার জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বিরোধী মামলা নং-৭১৫/২০২৩ দায়ের করেন। তার অভিযোগ, সেখানে সর্বশেষ বিবাদীরা উপস্থিত না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়।
এর মধ্যে সিরাজুল ইসলামসহ চারজনকে বিবাদী করে আদালতে মামলা নং-৮৬/২০২৪ দায়ের করে প্রতিপক্ষ। সিরাজুল ইসলাম মামলাটিকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আদালত প্রথমে সিআইডি এবং পরবর্তীতে পিআইবিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। তিনি দাবি করেন, উভয় তদন্তেই প্রতিপক্ষের প্রতারণা ও জমি দখলের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
এত কিছুর পরও জমি উদ্ধার করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন সিরাজুল ইসলাম। তার অভিযোগ, মৃত জাফর আলমের মেয়ের জামাই মোহাম্মদ আইয়ুব বর্তমানে ঢাকায় পুলিশের কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে কর্মরত থাকায় তার প্রভাব ব্যবহার করা হচ্ছে। ওই প্রভাবের জোরে তার শ্যালক মোস্তফা আমিরসহ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সিরাজুল ইসলামকে জমিতে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে মামলা ও হামলার ভয় দেখিয়ে তাকে নিয়মিত হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
বিরোধপূর্ণ জমির তফসিল অনুযায়ী, আরএস খতিয়ান নম্বর ৪১, ৪৭ ও ৪৯ এবং আরএস দাগ নম্বর ৩১৩০, ৩১২৯ ও ৩১২৮। বিএস খতিয়ান নম্বর ১৬৩৩, ৬০৬৬ ও ৬০৬৫ এবং বিএস দাগ নম্বর ৭২২৭। জমিটির অবস্থান কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং মণ্ডলপাড়ায়।
দীর্ঘ ১০ বছর ধরে নিজের বৈধ সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত থাকার দাবি করে মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও তিনি প্রতিকার পাচ্ছেন না। অভিযোগটির সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত জমি উদ্ধারে সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মোহাম্মদ আইয়ুব, মোস্তফা আমির কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
টেকনাফের সাবরাংয়ে এক প্রবীণের পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত ৪০ শতক জমি প্রায় ১০ বছর ধরে জবরদখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। জমি উদ্ধারে পুলিশ কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ আইয়ুবের প্রভাব বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীর।



0 মন্তব্যসমূহ