দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় দুই দফায় আট দিনের রিমান্ড শেষে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই নির্দেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল বলেছেন যে মামলার বাদী তার পূর্বপরিচিত ও সম্পর্কে ভাগিনা এবং বাদীর মেয়ে মরিয়মের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। ২০২৬ সালের ১৬ জুন মৌখিকভাবে বিয়ের পর মরিয়মকে ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে নিয়ে আসা হলেও তাকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হতো না। প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে নিয়ে শয়নকক্ষে থাকতেন নজরুল, আর মরিয়মকে মাঝে মাঝে শয়নকক্ষের পাশের বেলকনিতে রাত কাটাতে হতো। পুলিশের তদন্তে মরিয়মের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের তথ্য পাওয়ার কথাও আদালতকে জানানো হয়েছে। সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হারুনুর রশিদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দাবি করেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে যে দীর্ঘদিন এভাবে থাকার ফলে মরিয়ম বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন এবং এর জেরেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুল ইসলাম জামিন চেয়ে বলেন, দুই দফায় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও মামলায় নতুন কোনো তথ্য মেলেনি এবং পারিবারিক অভিমানের কারণেই মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে নজরুল একজন সংসদ সদস্য, আইনপ্রণেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও হৃদরোগী, তাই তাকে জামিন দেওয়া উচিত। গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটের পঞ্চম তলা থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর দিন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে গ্রেপ্তার করে। মাকছুদাও এক দিনের রিমান্ড শেষে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় আট দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে। সোমবার ঢাকার আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।



0 মন্তব্যসমূহ