জাতীয় সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মোক্তাদির জানিয়েছেন, গত তিন বছরে দেশে চার শতাধিক তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রুহুল আমিনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য দেন। মন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বিজিএমইএর ২৮২টি এবং বিকেএমইএর ১২০টিসহ মোট ৪০২টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার পেছনে তিনি করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, বৈশ্বিক মন্দা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে দায়ী করেন। এ ছাড়া ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট এবং বিদেশি ক্রেতাদের ছোট কারখানার প্রতি অনাগ্রহকেও অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমানে দুই দেশের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় পৌনে ১৩ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে বাংলাদেশ মাত্র ১ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। তবে ভারতের বাজারে রপ্তানি বাড়াতে সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের উদ্যোগ নিয়েছে।
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের ফলে বাংলাদেশ ১৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মন্ত্রী সতর্ক করেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পোশাক খাতের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৪৪ হাজার ৫০৫ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও তিনি সংসদকে অবহিত করেন। এ ছাড়া স্থানীয় ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার শিল্পকে সহায়তার জন্য যন্ত্রাংশ আমদানির সুযোগ থাকলেও টু-স্ট্রোক ইঞ্জিনবিশিষ্ট থ্রি-হুইলার আমদানি নিষিদ্ধ রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
গত তিন বছরে দেশে চার শতাধিক গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়েছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে সরকারের নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।



0 মন্তব্যসমূহ