ইন্টারনেটে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত গোপন তথ্য কেনাবেচার এক বিশাল বাজার গড়ে উঠেছে। তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাবের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। প্রতিবেদনে জানানো হয়, মাত্র এক হাজার টাকা খরচ করলেই যে কেউ অন্যের কল লিস্ট, লোকেশন এবং এনআইডির মতো সংবেদনশীল তথ্য পেয়ে যেতে পারেন। ফেসবুক, টেলিগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রকাশ্যেই চলছে এই অবৈধ কারবার।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ১০টি সক্রিয় ওয়েবসাইট এবং ফেসবুকে ৬০০টিরও বেশি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এসব তথ্য বিক্রি করা হচ্ছে। বিক্রির তালিকায় রয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্রের সব তথ্য, কল রেকর্ড, নির্দিষ্ট সময়ের অবস্থান বা লোকেশন এবং মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাবের বিবরণী। তথ্যের ধরন অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। মাত্র ১৬ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যেই মিলছে কাঙ্ক্ষিত তথ্য।
ডিসমিসল্যাবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চক্রের সদস্যরা সরকারি বিভিন্ন সার্ভারের এপিআই ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করার দাবি করেছে। একজন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভেতরের কারো সহযোগিতা বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি ছাড়া এভাবে রিয়েল টাইম তথ্য পাওয়া অসম্ভব। মোবাইল অপারেটররা জানিয়েছে, তারা বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানালেও এই অবৈধ ব্যবসা বন্ধ হচ্ছে না।
এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিলে এনটিএমসির এক পর্যালোচনায় দেখা গিয়েছিল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তার লগইন তথ্য ব্যবহার করে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া তথ্য প্রকাশ দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও এই চক্রগুলো এখনো সক্রিয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই ধরনের তথ্য ফাঁসের ফলে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন সাধারণ মানুষ।
অনলাইনে মাত্র এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে সাধারণ মানুষের কল লিস্ট ও লোকেশনসহ ব্যক্তিগত গোপন তথ্য। ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ফেসবুক ও টেলিগ্রাম কেন্দ্রিক এই ভয়াবহ তথ্য কেনাবেচার চিত্র।



0 মন্তব্যসমূহ