মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সঙ্গে সংঘাতের পর রাখাইন রাজ্যের ২৭১ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। এই অঞ্চলটি দখলে নেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের জলসীমা থেকে দফায় দফায় জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে। সম্প্রতি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মধ্যস্থতায় মুক্তি পাওয়া জেলেরা দাবি করেছেন, আরাকান আর্মির সদস্যরা সেন্টমার্টিন দ্বীপ দখল করার হুমকি দিচ্ছে।
গত ১৯ আগস্ট বিভিন্ন সময় অপহৃত ২৪ জন জেলেকে বিজিবির সহায়তায় ফেরত আনা হয়। ফিরে আসা শাহপরীর দ্বীপ ডাঙ্গরপাড়া এলাকার ট্রলার মালিক ও মাঝি রাশেদ জানান, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর সেন্টমার্টিনের অদূরে বাংলাদেশের জলসীমা থেকে তাদের অস্ত্রের মুখে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আরাকান আর্মির আদালতে তাদের ৮ বছরের সাজা দেওয়া হয় এবং বর্তমানে সেখানে আরও শতাধিক বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন। রাশেদের দাবি অনুযায়ী, আরাকান আর্মির সদস্যরা সেন্টমার্টিনকে রাখাইনের অংশ দাবি করে তা দখলের হুমকি দিয়েছে। তবে গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিজিবির তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৮ আগস্ট পর্যন্ত ৪৩৪ জন জেলেকে আটক করেছে আরাকান আর্মি। এর মধ্যে ২২২ জন বাংলাদেশি এবং ২১২ জন রোহিঙ্গা। বিজিবির প্রচেষ্টায় ৩৪৮ জনকে ফেরত আনা সম্ভব হলেও বর্তমানে মিয়ানমারের কারাগারে ৬৬ জন বাংলাদেশি ও ২১ জন রোহিঙ্গা বন্দি রয়েছেন।
হুমকির বিষয়ে টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, সেন্টমার্টিন দখল সংক্রান্ত এই বক্তব্যগুলো মূলত গুজব বা অপপ্রচার। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবি সবসময় প্রস্তুত রয়েছে এবং যেকোনো আঘাতের চেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
এদিকে, সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনায় হুজাইফা সুলতানা আফনান নামে এক শিশুর মৃত্যু এবং ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আক্কাস আহমদ মনে করেন, আরাকান আর্মির এই হুমকিকে অবজ্ঞার সুযোগ নেই। তিনি সীমান্ত এলাকায় সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং অনুপ্রবেশ ঠেকাতে রাষ্ট্রকে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
রাখাইন সীমান্ত দখলে নেওয়ার পর বাংলাদেশের জলসীমা থেকে জেলে অপহরণ ও সেন্টমার্টিন দখলের হুমকি দিচ্ছে আরাকান আর্মি। বিজিবি একে প্রোপাগান্ডা বললেও সীমান্ত সুরক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে বাহিনীটি।



0 মন্তব্যসমূহ