মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমবাজার একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ তুলে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, সরকারের একটি অসাধু মহল দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ক্ষতিগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই অভিযোগ করেন।
বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসীরা তাদের পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু সম্প্রতি মাত্র ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে শ্রমিক পাঠানোর সুযোগ দিয়ে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
জামায়াত নেতা আরও উল্লেখ করেন, অতীতেও এমন সিন্ডিকেটের কারণে শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে। এবারও আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই ব্যবস্থার কারণে একজন শ্রমিকের মালয়েশিয়া যেতে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে, যা সাধারণ পরিবারের জন্য বড় বোঝা। তিনি বলেন, দেশে দুই হাজারের বেশি বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি থাকা সত্ত্বেও মাত্র ২৫টিকে সুযোগ দেওয়া অযৌক্তিক।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এমতাবস্থায় সিন্ডিকেট ভেঙে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সব অভিজ্ঞ ও বৈধ সদস্যের জন্য বাজার উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। একইসঙ্গে কম খরচে ও নিরাপদ পরিবেশে শ্রমিক পাঠানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। ২৫টি এজেন্সির মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে দলটি বলছে, এতে অভিবাসন ব্যয় কয়েক গুণ বাড়বে। সাধারণ শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় এই সিন্ডিকেট ভেঙে সব বৈধ এজেন্সির জন্য বাজার উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে জামায়াত।



0 মন্তব্যসমূহ