জীবন আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অনন্য দান এবং এর মধ্যে যৌবনকাল হলো মানুষের শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে দেখা যায়, অন্যায় ও পাপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে এবং জাতির মুক্তি ও শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে যুবসমাজই প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হজরত ইব্রাহিম (আ.) ছিলেন তেমনই এক যুবক, যিনি প্রথম নিজ গোত্রের মূর্তিপূজার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। এছাড়া আসহাবে কাহাফের যে ধার্মিক ব্যক্তিদের আল্লাহ শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন, তারাও ছিলেন যুবক।
ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, বনি ইসরাইলের যুবকেরাই প্রথম হজরত মুসা (আ.)-এর প্রতি ইমান এনেছিলেন। একইভাবে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দাওয়াতের প্রথম দিকে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তাদের অধিকাংশের বয়স ছিল ১৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। ইমাম ইবনে কাসির (রহ.)-এর মতে, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আহ্বানে সাড়াদানকারীদের বেশির ভাগই ছিলেন যুবক। শৈশব ও বার্ধক্যের মধ্যবর্তী এই সময়ে মানুষ শারীরিক ও মানসিকভাবে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী থাকে।
কিয়ামতের দিন যৌবনকালের সময়ের হিসাব বিশেষভাবে নেওয়া হবে বলে হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) জানিয়েছেন, সাত শ্রেণির ব্যক্তি আরশের নিচে ছায়া পাবেন, যাদের মধ্যে অন্যতম হলো সেই যুবক যার যৌবন অতিবাহিত হয়েছে আল্লাহর ইবাদতে। এছাড়া পাঁচটি অমূল্য সুযোগকে বার্ধক্য বা মৃত্যুর আগে কাজে লাগানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে যৌবনকাল অন্যতম। নবী-রাসুলগণও সাধারণত যৌবনকালেই নবুয়ত ও প্রজ্ঞা লাভ করেছিলেন।
বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজমের সহকারী অধ্যাপক অধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী জানান, প্রত্যেক তরুণ ও যুবকের উচিত নিজেকে পবিত্র রেখে আল্লাহর ইবাদত ও সৎকর্মে নিয়োজিত থাকা। আল্লাহকে ভয় করা, সুন্নতে নববি অনুসরণ এবং মানুষের উপকারের মাধ্যমে সমাজ থেকে অসৎ কাজ দূর করতে যুবকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
যৌবনকাল আল্লাহর দেওয়া শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। নবী-রাসুলদের আহ্বানে যুবকদের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। কিয়ামতের দিন যৌবনের হিসাব দিতে হবে, তাই এই সময়কে আল্লাহর ইবাদতে ব্যয় করা প্রত্যেক তরুণের দায়িত্ব।



0 মন্তব্যসমূহ