নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব থাকা না থাকা নিয়ে জনসমক্ষে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দাবি জানান। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, প্রতিমন্ত্রী যদি নাগরিকত্ব ছেড়ে থাকেন, তবে তার দালিলিক প্রমাণ প্রকাশ করা উচিত।
সম্প্রতি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবিরের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ উল্লেখ করেন, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর সরাসরি ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ হওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল। কিন্তু তা না করে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আক্রমণাত্মক ও তাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ করেছেন, যা একজন প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে কাম্য নয়। তিনি আরও বলেন, কূটনীতিকদের কাছ থেকে সাধারণত ধৈর্যশীল ও কৌশলী আচরণের প্রত্যাশা করা হয়।
সংবিধান ও দেশের প্রচলিত আইনের প্রসঙ্গ টেনে এই সংসদ সদস্য বলেন, বিদেশি নাগরিকত্ব বহাল রেখে কেউ সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হতে পারেন না। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতেও অনেক মন্ত্রী ও প্রার্থী তাদের বিদেশি নাগরিকত্বের তথ্য গোপন করেছিলেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এমন কয়েকজনের কথা উল্লেখ করলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও জানান, হুমায়ুন কবির দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। এমতাবস্থায় প্রধানমন্ত্রী তাকে সব জেনে-বুঝে দায়িত্ব দিয়েছেন কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও আবদুল মোমেনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তারা যথাক্রমে বেলজিয়াম ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গোপন করে মন্ত্রী হয়েছিলেন এবং ৫ আগস্টের পর নিজ নিজ দেশে চলে গেছেন। বর্তমান সরকার যেন সেই একই পথে না হাঁটে, সেই আহ্বান জানান তিনি।
সবশেষে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাজনৈতিক তকমা দেওয়া বা ব্যঙ্গ করা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ। এটি গণমাধ্যমে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তাই হুমায়ুন কবিরকে কোনো রাজনৈতিক ইঙ্গিত না দিয়ে নাগরিকত্বের বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ বলে স্পষ্ট জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান হাসনাত আবদুল্লাহ।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। নাগরিকত্ব ছেড়ে থাকলে তার প্রমাণ প্রকাশের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকরা মন্ত্রী হতে পারেন না।



0 মন্তব্যসমূহ