পশ্চিম এশিয়ায় পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের পথে ইসরায়েলের গোপন পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারকে প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, ইসরায়েলের কাছে বর্তমানে প্রায় ৯০টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। এসব অস্ত্রের সম্মিলিত ধ্বংসক্ষমতা হিরোশিমায় ব্যবহৃত বোমার চেয়ে প্রায় ১৬৫ গুণ বেশি। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েল প্রতি বছর প্রায় ১০টি নতুন পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরির সক্ষমতা রাখে।
দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে ‘অস্পষ্টতার নীতি’ অনুসরণ করে আসছে। তারা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিতে (এনপিটি) স্বাক্ষর করেনি এবং আন্তর্জাতিক তদারকিও প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে, ইরান ১৯৭০ সাল থেকে এনপিটির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও কঠোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা থিওডোর পোস্টল মন্তব্য করেছেন যে, পশ্চিম এশিয়ায় মূল পারমাণবিক হুমকি ইরান নয়, বরং ইসরায়েল থেকেই উদ্ভূত।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৫২টি দেশ ইসরায়েলকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শনের আওতায় আসার আহ্বান জানিয়েছে। ইরান, মিসর, কুয়েত ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশ এই দাবিকে সমর্থন করেছে। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেত্রে কঠোর হলেও ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে দ্বৈত নীতি গ্রহণ করছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইসরায়েলের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির পথে বড় বাধা ইসরায়েলের গোপন পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার। সিপ্রির প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশটির কাছে ৯০টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। আন্তর্জাতিক তদারকি ও নিরস্ত্রীকরণের দাবি জোরালো হচ্ছে।



0 মন্তব্যসমূহ