একজন মুসলমানের জন্য ধর্মের মৌলিক বিষয়গুলো পালনের নিমিত্তে ন্যূনতম ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করা অপরিহার্য। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় এই জ্ঞানকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথমটি হলো ফরজে আইন, যা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ব্যক্তিগতভাবে শেখা বাধ্যতামূলক। দ্বিতীয়টি হলো কিফায়াহ বা সমষ্টিগত ফরজ, যা সমাজের নির্দিষ্ট কিছু মানুষ শিখলে অন্যদের ওপর থেকে দায়ভার লাঘব হয়।
বিখ্যাত মনিষী আল্লামা ইবনুল কাইয়িম (রহ.)-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ফরজে আইনমূলক জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুমিনের ব্যক্তিগত দায়িত্ব এবং এ বিষয়ে অজ্ঞ থাকা কারো জন্যই বৈধ নয়। তিনি এই জ্ঞানকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করেছেন। প্রথমত, ইমানের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভ তথা আল্লাহ, ফেরেশতা, আসমানি কিতাব, রাসুলগণ এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাসের সঠিক জ্ঞান থাকা জরুরি। দ্বিতীয়ত, দৈনন্দিন ইবাদত যেমন অজু, নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাত সংক্রান্ত বিধিবিধান এবং এগুলো ভঙ্গের কারণগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে।
তৃতীয়ত, শরিয়তে চিরন্তন নিষিদ্ধ বা হারাম বিষয়গুলো সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে শিরক, অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন এবং অশ্লীল কাজসহ পাঁচটি প্রধান নিষিদ্ধ বিষয়। চতুর্থত, সামাজিক লেনদেন ও পারস্পরিক মেলামেশার নিয়মাবলি জানা আবশ্যক। তবে এই জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা ব্যক্তির সামাজিক অবস্থান ও পেশার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। যেমন একজন ব্যবসায়ীর জন্য ব্যবসার নিয়ম জানা যতটুকু জরুরি, সাধারণ মানুষের জন্য তা ততটা নাও হতে পারে।
টঙ্গীর বাইতুল আকরাম মসজিদ ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের শিক্ষক মাহমুদ হাসান ফাহিম জানান, আবশ্যকীয় এই জ্ঞানের মূলে রয়েছে তিনটি প্রধান নীতি। এগুলো হলো বিশ্বাসগত জ্ঞান, কর্মগত জ্ঞান এবং বর্জনগত জ্ঞান। আকিদার ক্ষেত্রে এই জ্ঞান বাস্তব সত্যের অনুসারী হতে হবে এবং কর্মের ক্ষেত্রে তা যেন শরিয়তের নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকে। এছাড়া আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সব ধরনের পাপ কাজ থেকে বিরত থাকাই হলো বর্জনগত জ্ঞানের মূল লক্ষ্য।
প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজে আইন বা মৌলিক ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করা বাধ্যতামূলক। ইমান, আমল ও বর্জনীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা প্রত্যেক মুমিনের ব্যক্তিগত দায়িত্ব।



0 মন্তব্যসমূহ