চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানসহ দেশের পাহাড়ি অঞ্চলে পাহাড়ধস এখন এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে। চলতি বর্ষায় গত চার দিনে এই তিন জেলায় পাহাড়ধসে অন্তত ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। গবেষক ও লেখক পাভেল পার্থের মতে, এই বিপর্যয় মূলত মানুষের তৈরি এবং একটি কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড। পাহাড়ের শ্রেণি পরিবর্তন করে নৃশংসভাবে পাহাড় কাটার ফলেই এই মৃত্যুর মিছিল থামছে না। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৭ সালে চট্টগ্রামে ভয়াবহ পাহাড়ধসে ১৩০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর ২০১৭ সালে রাঙামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রামে প্রাণ হারান ১৩৭ জন। পাহাড়ের বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস করে সেগুন, তামাক বা অ্যাকাশিয়ার মতো বাণিজ্যিক বাগান করা এবং পাহাড়ের ঢালে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি স্থাপনকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করা হচ্ছে। বর্তমানে অতিবৃষ্টির কারণে কক্সবাজারের সঙ্গে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং সাজেকে পর্যটকরা আটকা পড়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ঝরনা এলাকায় পর্যটকদের ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বন বিভাগ। গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের ২৮২টি পাহাড়ের মধ্যে সিলেট ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড রিজে পাহাড়ের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ড. সাইদুর আর চৌধুরী এবং জিয়াউল হকের পাহাড়শুমারি অনুযায়ী, উঁচু পাহাড়গুলো সাধারণত ধসে পড়ে না; বরং যেসব পাহাড় ৪৫ ডিগ্রির বেশি কোণে কাটা হয়েছে, সেগুলোই ধসের শিকার হচ্ছে। পাহাড় সুরক্ষায় পরিবেশ সংরক্ষণ আইন থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগ নেই। এই সংকট উত্তরণে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর লোকায়ত জ্ঞানকে গুরুত্ব দিয়ে একটি ‘জাতীয় পাহাড় ব্যবস্থাপনা নীতিমালা’ প্রণয়ন করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে পাহাড়ধসে গত চার দিনে ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাহাড় কাটা ও পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট এই বিপর্যয় রোধে জাতীয় পাহাড় ব্যবস্থাপনা নীতিমালা এখন সময়ের দাবি।

0 মন্তব্যসমূহ