জ্বালানি খাতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগ প্রাপ্তির শর্তে কুয়েতের সঙ্গে একটি বড় ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে পাকিস্তান। সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই আলোচনা বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনার কারণে এই চুক্তিটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া বেশ জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত বছর সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পাদিত প্রতিরক্ষা চুক্তির ফলে পাকিস্তান আঞ্চলিক কোনো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে কি না, তা নিয়ে ইসলামাবাদে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবে হামলা চালানোর পর পাকিস্তান স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল, সৌদির ওপর যেকোনো আক্রমণকে তারা নিজেদের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করবে। কুয়েতও সম্প্রতি বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ায় তারা পাকিস্তানের কাছ থেকে শক্তিশালী সামরিক সহায়তা প্রত্যাশা করছে। কুয়েতের চাহিদার তালিকায় পাকিস্তানের হাজার হাজার সেনা মোতায়েন, যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কুয়েতের পক্ষ থেকে অনেক চাহিদা থাকলেও তারা এই মুহূর্তে যুদ্ধ করার জন্য কোনো সেনা পাঠানোর কথা ভাবছেন না। মূলত অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় জরুরি বিনিয়োগ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই পাকিস্তান এই ধরনের চুক্তিতে আগ্রহী হচ্ছে। সম্ভাব্য এই চুক্তির অংশ হিসেবে কুয়েত পাকিস্তানে একটি বন্ডেড জ্বালানি সংরক্ষণাগার তৈরির পরিকল্পনা করছে, যা পাকিস্তানের জ্বালানি মজুত বাড়াতে সহায়তা করবে।
সিডনির ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক গবেষক মুহাম্মদ ফয়সাল এই বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের চুক্তিতে অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সচেতন থাকা উচিত। কুয়েত ছাড়াও বাহরাইন, জর্ডান এবং তুরস্কের সঙ্গেও পাকিস্তানের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমিত হলে কুয়েতের সঙ্গে এই আলোচনা আরও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জ্বালানি ও বিনিয়োগের বিনিময়ে কুয়েতের সঙ্গে একটি বড় প্রতিরক্ষা চুক্তির আলোচনা করছে পাকিস্তান। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার কারণে এই চুক্তিটি বেশ জটিল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



0 মন্তব্যসমূহ