গাইবান্ধায় কয়েক দিনের অবিরাম বৃষ্টিতে শহররক্ষা বাঁধের অন্তত ২৫টি পয়েন্টে ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে বাঁধটির স্থায়িত্ব নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সদর উপজেলার ভেরামারা থেকে গোরহাট পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বাঁধটি ঘাঘট নদীর ভাঙন ও বন্যা থেকে জেলা শহরকে রক্ষা করে। বর্তমানে বাঁধের ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই ছোট-বড় যানবাহন ও মানুষ চলাচল করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের কুটিপাড়া, ডেভিড কোম্পানিপাড়া ও জুম্মাপাড়া এলাকায় বাঁধের অবস্থা সবচেয়ে বেশি নাজুক। বৃষ্টির কারণে মাটি সরে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধের একটি বড় অংশ বালুমিশ্রিত মাটি দিয়ে তৈরি হওয়ায় বৃষ্টির পানি সহজেই ভেতরে ঢুকে ধস নামছে। কুটিপাড়া এলাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম জানান, বৃষ্টিতে বাঁধের মাটি ক্ষয়ে গেলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। বর্ষা এলে কেবল কিছু বালুর বস্তা ফেলে দায়সারা কাজ করা হয়।
গত ১৪ জুন ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান। তিনি জানান, বাঁধটি জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং জেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। এদিকে গাইবান্ধা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টির ফলে কিছু স্থানে ‘রেইনকাট’ বা ধস দেখা দিলেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ইতিমধ্যে ছয়-সাতটি স্থানে বালুর বস্তা ফেলে সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে এবং বাকি পয়েন্টগুলোতে কাজ চলমান রয়েছে।
গাইবান্ধায় টানা বর্ষণে শহররক্ষা বাঁধের ২৫টি স্থানে ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে চরম আতঙ্কে রয়েছেন শহরবাসী। জেলা প্রশাসন ও পাউবো সংস্কার কাজ শুরু করলেও স্থায়ী সমাধান চান স্থানীয়রা।



0 মন্তব্যসমূহ