চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রাজনৈতিক মতামত ও মন্তব্য করার জেরে এক যুবককে মারধর, অপহরণ এবং আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় কয়েকজন নেতা ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতাসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বুধবার রাতে ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন (৩২) বাদী হয়ে ফটিকছড়ি থানায় এই মামলা করেন।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মোহাম্মদ ইমাম হোসেনের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ ও ১০ জুলাই ফটিকছড়ির সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়ে ফেসবুকে দুটি পোস্ট দেন ইমাম হোসেন। পরবর্তীতে ১৭ জুলাই ‘ফটিকছড়ি জামায়াতে ইসলামী প্রচার বিভাগ’ নামের একটি ফেসবুক পেজে দলটির ভোট কমে যাওয়ার কারণ নিয়ে একটি মন্তব্য করেন তিনি। এর জেরে আসামিরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে হামলার পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, গত ২০ জুলাই সন্ধ্যায় ফটিকছড়ি উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে ইমাম হোসেনকে ঘিরে ধরে মারধর করা হয়। এসময় মামলার প্রধান আসামি ইব্রাহিম খলিল তাকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকাতে গিয়ে জখম হন। দ্বিতীয় আসামি গিয়াস উদ্দীন রুবেল তার পকেট থেকে ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। এরপর তাকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে চোখ বেঁধে অপহরণ করে ফটিকছড়ি জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রেখে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং হত্যার ভয়ভীতি দেখানো হয়।
বাদী জানান, ২১ জুলাই ভোরে মামলা করলে হত্যার হুমকি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন এবং পরবর্তীতে স্বজনদের সাথে আলোচনা করে থানায় মামলা দায়ের করেন।
ফেসবুকে রাজনৈতিক মন্তব্যের জেরে ফটিকছড়িতে এক যুবককে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে জামায়াত নেতাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।



0 মন্তব্যসমূহ