যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে কেন্দ্র করে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ঘোষণা করেছেন যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পরোয়ানাভুক্ত নেতানিয়াহু শহরে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। এই ঘোষণাকে পুঁজি করে ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভক্তি আরও উসকে দিতে চাইছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কোনোভাবেই নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প এই ইস্যুটিকে ব্যবহার করে ডেমোক্র্যাটদের 'চরমপন্থী' হিসেবে ভোটারদের কাছে তুলে ধরতে চাইছেন। মেয়র মামদানি অবশ্য তার অবস্থানে অনড়। তিনি নেতানিয়াহুকে একজন 'যুদ্ধাপরাধী' হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, তার জায়গা হওয়া উচিত দ্য হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে।
এই লড়াইয়ের নেপথ্যে রয়েছে আসন্ন নির্বাচনের গভীর রাজনৈতিক হিসাব। ডেমোক্রেটিক পার্টির নতুন প্রজন্মের নেতারা ইসরায়েলবিরোধী কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন, যা তৃণমূলের প্রগতিশীল ভোটারদের সমর্থন পাচ্ছে। মিশিগানের ডেমোক্র্যাট সিনেটর পদপ্রার্থী আব্দুল আল-সায়েদও ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার বিরোধিতা করে মার্কিন করের টাকা জনকল্যাণে ব্যয়ের দাবি তুলেছেন। অন্যদিকে, পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যানের মতো মধ্যপন্থীরা দলের এই পরিবর্তনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র 'রোম সংবিধি' অনুমোদন না করায় আইনিভাবে এই গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া বেশ জটিল, তবুও রাজনৈতিকভাবে এটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে রক্ষণশীল ও শ্বেতাঙ্গ শ্রমিকশ্রেণির ভোটারদের নিজের জোটে টানার চেষ্টা করছেন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভক্তি কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চাইছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।



0 মন্তব্যসমূহ