পবিত্র কোরআন মানবজাতির জন্য আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নাজিলকৃত এক বরকতময় গ্রন্থ। এই কিতাব অবতীর্ণ করার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষ যেন এর আয়াতগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং উপদেশ গ্রহণ করে। তবে অনেক সময় নিয়মিত কোরআন পাঠ করা সত্ত্বেও অনেকে এর প্রকৃত নূর বা বরকত অনুভব করতে পারেন না। কোরআনের এই আলোয় জীবনকে আলোকিত করতে হলে কিছু বিশেষ নিয়ম ও আদব মেনে চলা জরুরি।
কোরআনের বরকত লাভের প্রথম শর্ত হলো একে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে নেওয়া এবং নিয়মিত শুদ্ধভাবে পাঠ করা। আল্লাহ তাআলা ধীরস্থির ও স্পষ্টরূপে কোরআন পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন। হজরত কুরাইব (রাহ.) নবীজি (সা.)-এর কিরাত সম্পর্কে জানতে চাইলে ইবনে আব্বাস (রা.) জানান, রাসুল (সা.) অত্যন্ত স্পষ্ট ও ধীরস্থিরভাবে পাঠ করতেন। এছাড়া মনে মনে পড়ার চেয়ে কিছুটা উচ্চ স্বরে পাঠ করা মৃত হৃদয়কে জাগ্রত করতে সহায়তা করে।
কোরআনের মর্মার্থ অনুধাবন করা বরকত পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর মতে, সাহাবায়ে কেরাম দশটি আয়াত শেখার পর তার অর্থ ও আমল নিশ্চিত না করে পরবর্তী আয়াতে যেতেন না। কোরআনে বর্ণিত পূর্ববর্তী জাতিগুলোর ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং প্রতিটি আয়াত নিজের জন্য নাজিল হয়েছে ভেবে পাঠ করা প্রয়োজন। আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণিত এক হাদিসে দেখা যায়, সাবিত ইবনে কায়স (রা.) একটি আয়াত শুনে নিজের আমল নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন, যা তাঁর তাকওয়ার পরিচয় দেয়। পরবর্তীতে নবীজি (সা.) তাঁকে জান্নাতি হিসেবে ঘোষণা করেন।
আলেমরা মনে করেন, কোরআনের বরকত না পাওয়ার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত, নিয়মিত পাঠে অনীহা। দ্বিতীয়ত, অন্তরে হিংসা, অহংকার বা লোকদেখানো ইবাদতের মতো আত্মিক ব্যাধি থাকা। তৃতীয়ত, দুনিয়ার অনর্থক বিনোদন ও পাপকাজে লিপ্ত থাকার ফলে হৃদয়ে উদাসীনতা তৈরি হওয়া। রাতের নিস্তব্ধতায় কোরআন তেলাওয়াত হৃদয়ে বিশেষ শক্তি জোগায় এবং প্রবৃত্তি দমনে সাহায্য করে। তাই জীবনকে কোরআনের আলোয় রাঙাতে হলে এর অর্থ বুঝে আমল করার কোনো বিকল্প নেই।
নিয়মিত কোরআন পাঠ করেও কেন জীবনে বরকত আসছে না? জীবনকে আলোকিত করতে পবিত্র কোরআনের নূর ও বরকত লাভের সাতটি কার্যকর উপায় এবং এর সুফল থেকে বঞ্চনার নেপথ্য কারণগুলো বিস্তারিত জেনে নিন।



0 মন্তব্যসমূহ