আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে গত রবিবার সকালে আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেস থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কানসাস সিটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছে লিওনেল মেসির দল। বিশেষ এই চার্টার ফ্লাইটের নম্বর ছিল ১৯৭৮, যা আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্মারক হিসেবে রাখা হয়। দলের অধিকাংশ সদস্য সকালে পৌঁছালেও ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসি এদিন রাত ৯টায় আলাদা একটি বিমানে সেখানে অবতরণ করেন।
বিমানবন্দর থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে খেলোয়াড়দের মিজৌরির বার্কলি নদীর তীরে অবস্থিত অরিজিন হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। হোটেলটি বর্তমানে আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে সজ্জিত এবং সেখানে মেসির বিশাল ব্যানার শোভা পাচ্ছে। প্রিয় দলকে স্বাগত জানাতে সেখানে কয়েকশ ভক্ত সমবেত হন। বিশেষ করে ১৭টি দেশ পাড়ি দিয়ে দীর্ঘ ১১ হাজার মাইল সাইকেল চালিয়ে আসা তিন আর্জেন্টাইন ভক্ত মিগুয়েল সিলিও, ইয়ামুন্ডু মার্টিনেজ ও ভিসেন্টে কনকুলিনিকে শ্যাম্পেইন ছিটিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সোমবার বিকেল থেকে কম্পাস মিনারেলস ন্যাশনাল পারফরম্যান্স সেন্টারে অনুশীলন শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। টুর্নামেন্ট চলাকালীন স্পোর্টিং কেসি ট্রেনিং সেন্টারটি হবে তাদের মূল ঘাঁটি। মূল লড়াইয়ে নামার আগে টেক্সাসের কলেজ স্টেশনে ৬ জুন হন্ডুরাস এবং ৯ জুন আইসল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এরপর ১৬ জুন অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান।
স্পোর্টিং কানসাস সিটির প্রেসিডেন্ট ও সিইও জেক রিড জানান, আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিরা স্থানীয় আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়েছেন। এদিকে বিশ্বকাপ চলাকালীন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং আবাসন সংকট এড়াতে নর্থ কানসাস সিটি কর্তৃপক্ষ সরকারি স্থানে অস্থায়ী ক্যাম্পিং নিষিদ্ধ করে অধ্যাদেশ জারি করেছে। ১৬ জুন থেকে ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশনে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছে মেসির আর্জেন্টিনা। কানসাস সিটিতে জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ভক্তদের উন্মাদনা আর কড়া নিরাপত্তায় শুরু হলো আলবিসেলেস্তেদের বিশ্বজয়ের নতুন অভিযান।



0 মন্তব্যসমূহ