আগামী আগস্ট মাসে ঢাকা ও সারা দেশে বড় ধরনের শোডাউন করার পরিকল্পনা করছে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তারা বিভিন্ন কৌশলে সংঘটিত ও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। সংগঠনটি নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও এরই মধ্যে সিরাজগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, শেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজসহ প্রায় দুই ডজন ইউনিটে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে চাঙ্গাভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আত্মগোপনে থাকা মধ্যম সারির অনেক নেতা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছেন এবং কেউ কেউ বিদেশ থেকেও দেশে ফিরেছেন। তবে তারা বর্তমানে নিজ নিজ এলাকায় অনেকটা নীরবে অবস্থান করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার বাড়তে পারে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধান লক্ষ্যবস্তু এখন ড. ইউনূস। কারণ তিনি ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন এবং দেশে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সংস্কার চান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ মূলত এ দেশে ভারতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে, তাই ড. ইউনূসকে নিয়ে অপপ্রচার ঠেকাতে ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানান, ড. ইউনূস আন্তর্জাতিকভাবে একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি এবং তাকে হেয় করলে দেশেরই সুনাম ক্ষুণ্ণ হবে। তিনি গঠনমূলক সমালোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন মনে করেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক কৌশলে ফেরার চেষ্টা করবে এবং বর্তমান সরকারের ভুলত্রুটি নিয়ে রাজনীতি করতে চাইবে। তবে যেকোনো কর্মকাণ্ড আইনি কাঠামোর মধ্যে হতে হবে এবং কোনো ধরনের হঠকারিতা জনগণ মেনে নেবে না।
আগস্টে বড় শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠন ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের সক্রিয় হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।



0 মন্তব্যসমূহ